বঙ্গযুদ্ধে দ্বিতীয় দফার ‘মেগা ফাইট’, সকাল ৯টাতেই বাজিমাত বর্ধমান-হুগলির, টক্করে মমতা-শুভেন্দু!

বুধবার সকাল থেকেই সরগরম পশ্চিমবঙ্গ। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ লড়াই শুরু হয়েছে রাজ্যের ১৪২টি আসনে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজ্যে গড়ে ১৮.৩৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। জেলাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গিয়েছে পূর্ব বর্ধমানে, যেখানে ভোট পড়েছে ২০.৮৬ শতাংশ। এর ঠিক পরেই রয়েছে হুগলি (২০.১৬%)। এছাড়া নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও হাওড়াতেও ভোটারদের লম্বা লাইন চোখে পড়ার মতো। পিছিয়ে নেই তিলোত্তমাও, কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণে ভোটের হার যথাক্রমে ১৭.২৮% ও ১৬.৮১%।
ভবানীপুরে সম্মুখ সমরে হেভিওয়েটরা
এদিন সকাল থেকেই অ্যাকশনে দেখা গিয়েছে রাজ্যের প্রধান দুই শিবিরের সেনাপতিদের। তৃণমূলের দুর্গ বলে পরিচিত ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সকাল থেকেই ভবানীপুর কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে ঘুরে ভোটারদের সাহস জোগান। এই দফায় মূলত দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতার আসনগুলিতে ভোট হওয়ায় একে তৃণমূলের জন্য ‘লিটমাস টেস্ট’ বা অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পাটিগণিতের হিসেবে ভোটযুদ্ধ
দ্বিতীয় দফায় মোট ১৪২টি আসনে লড়াই করছেন ১,৪৪৮ জন প্রার্থী, যার মধ্যে ২২০ জন মহিলা। মোট ৩.২১ কোটি ভোটার আজ ঠিক করবেন রাজ্যের ভাগ্য। বিশেষ নজর কেড়েছে নির্বাচন কমিশনের নারী শক্তির প্রয়োগ; প্রায় ৮,০০০-এর বেশি বুথের সম্পূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন মহিলারা।
বিগ ফাইভ লড়াই ও চ্যালেঞ্জ
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে ১২৩টিতেই জয়ী হয়েছিল ঘাসফুল শিবির। এবারের লড়াইয়ে বিজেপির প্রধান লক্ষ্য শহরের ‘ভদ্রলোক’ ভোটব্যাঙ্ক এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় করা। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্য টানা চতুর্থবার নবান্নের দখল নিতে নিজেদের এই অভেদ্য দুর্গ রক্ষা করা। ভবানীপুরের পাশাপাশি টালিগঞ্জের তারকা লড়াইয়ের দিকেও নজর রয়েছে সারা বাংলার। শাসক দল কি পারবে নিজেদের রেকর্ড ধরে রাখতে, নাকি গেরুয়া শিবির ঘটাবে বড় কোনো অঘটন? উত্তর লুকিয়ে আজ ইভিএম-এর অন্দরে।