সোমবার লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বিশেষ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এই গানটিকে দেশের স্বাধীনতার জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন। তবে তাঁর ভাষণের মাঝেই ঘটে যায় এক মজার ঘটনা, যখন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় তাঁকে থামিয়ে দেন।
🗣️ বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলায় আপত্তি
‘বন্দে মাতরম’ গানটির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবার তাঁকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে উল্লেখ করতে থাকেন। এই অনভিপ্রেত সম্বোধন শুনেই আপত্তি জানান দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় (Saugata Roy)।
সৌগত রায় প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, “আপনি বার বার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বঙ্কিমদা বলছেন কেন? অন্তত বাবু বলুন।”
এই আপত্তি শুনে প্রধানমন্ত্রী মোদী এক মুহূর্তের জন্য থমকে যান এবং সঙ্গে সঙ্গেই নিজের ভুল সংশোধন করে নেন। তিনি বলেন, “আচ্ছা, আপনার ভাবাবেগে আঘাত লাগার জন্য দুঃখিত। আমি বঙ্কিমবাবু বলছি।” এরপর অবশ্য সৌগত রায়কেই ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করে তাঁকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
📜 নেহেরু-কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ
ভাষণের মূল অংশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি কংগ্রেস এবং জওহরলাল নেহেরুর (Jawaharlal Nehru) বিরুদ্ধে ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার মারাত্মক অভিযোগ তোলেন।
মোদী বলেন, “আগামী প্রজন্মকে জানানো উচিত, বন্দে মাতরমের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছিল।” তিনি ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বলেন:
-
মুসলিম লিগের পক্ষ থেকে ‘বন্দে মাতরম’-এর বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনীতি বাড়ছিল। মহম্মদ আলি জিন্নাহ (Mohammad Ali Jinnah) ১৯৩৭ সালে এর বিরুদ্ধে স্লোগানিং শুরু করেছিলেন।
-
এরপরই জওহরলাল নেহেরু নিজের আসন নড়বড় হতে দেখে মুসলিম লিগের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করার পরিবর্তে উল্টো কাজ করেন।
-
জিন্নাহর বিরোধিতার পাঁচ দিন পর নেহেরু নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে চিঠি লেখেন এবং জিন্নাহর সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন, ‘আনন্দমঠ’-এ ‘বন্দে মাতরম’-এর কিছু অংশ মুসলিমদের চটাতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বঙ্কিমবাবুর বাংলা, বঙ্কিমবাবুর কলকাতায় বসেই বন্দে মাতরমের কাটাছেঁড়া হলো।” তিনি অভিযোগ করেন, দেশের মানুষ বিরোধিতা করা সত্ত্বেও বন্দে মাতরম নিয়ে নেহেরুজি ‘সমঝোতা’ করেছিলেন। মোদীর দাবি, “বন্দে মাতরমের টুকরো করা হল। কংগ্রেস মুসলিম লিগের সামনে মাথা নত করে দিল। পক্ষপাতিত্বের রাজনীতির একটি বড় নমুনা ছিল সেটি।”
মোদী আরও বলেন, সেই নীতির কারণেই কংগ্রেসকে একদিন ভারত ভাগের জন্যও মাথা নত করতে হয়েছিল এবং “দুর্ভাগ্যবশত কংগ্রেসের নীতি এখনও একই রয়েছে।”
🏆 বন্দে মাতরমের মাহাত্ম্য পুনরুদ্ধারের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই গান দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রেরণা দিয়েছিল এবং ত্যাগ ও তপস্যার পথ দেখিয়েছিল। তিনি বন্দে মাতরমের মাহাত্ম্য পুনরুদ্ধার করার সুযোগ প্রসঙ্গে বলেন, “যখন বন্দে মাতরম ৫০ বছর পূর্ণ করেছিল, তখন দেশ ব্রিটিশ শাসনে ছিল। যখন বন্দে মাতরম ১০০ বছর পূর্ণ করে তখন ভারত জরুরি অবস্থার কবলে ছিল। কিন্তু যখন আজ ১৫০ বছর পূরণ হচ্ছে, তখন আমাদের সামনে সেই গর্ব পুনরুদ্ধার করার সুযোগ রয়েছে।”