ভারতের বিচারব্যবস্থায় ব্যক্তিগত সম্পর্কের আইনি ব্যাখ্যায় এক যুগান্তকারী মোড়। বিবাহিত পুরুষ যদি অন্য কোনো নারীর সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে জড়ান, তবে তাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না—এমনই এক চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ দিল উচ্চ আদালত। আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, যদি দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কোনো সম্পর্কে লিপ্ত হন, তবে সেই সম্পর্ককে ‘বেআইনি’ তকমা দেওয়া যায় না।
আদালতের এই পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং পছন্দের অধিকার প্রত্যেকেরই রয়েছে। একজন পুরুষ বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও যদি অন্য কোনো সঙ্গীর সঙ্গে থাকতে চান এবং সেখানে যদি কোনো জোরজবরদস্তি না থাকে, তবে আইন সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। সামাজিক নৈতিকতা এবং আইনি অপরাধের মধ্যে যে এক সূক্ষ্ম রেখা রয়েছে, বিচারক সেই বিষয়টিকেই পুনপ্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে আদালত এও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের সম্পর্ক অপরাধ না হলেও, বিবাহিত জীবনে এর প্রভাব এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে এর আইনি গুরুত্ব অপরিবর্তিত থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় আধুনিক সমাজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতাকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পথে এক বড় ধাপ। যদিও রক্ষণশীল মহলে এই রায় নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও আদালতের এই রায় ব্যক্তিগত পরিসরে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কমানোর বার্তা দিচ্ছে। এই রায়ের ফলে এখন থেকে সম্মতিসূচক লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে আইনি হয়রানির শিকার হতে হবে না।