বউমার পা ছুঁতেন শাশুড়ি, বচ্চন পরিবারে এক অদ্ভুত প্রথা, যা বন্ধ করেছিলেন অমিতাভ বচ্চনের বাবা!

বলিউড তারকারা আলোকবৃত্তে থাকলেও, রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে তাদের পারিবারিক জীবন সাধারণ মানুষের মতোই। বিশেষ করে বিবাহ অনুষ্ঠানে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত রীতিনীতির বৈচিত্র্য তাদের উদযাপনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। এমনই এক চমকপ্রদ প্রথা একসময় চালু ছিল বলিউডের অন্যতম সম্মানিত বচ্চন পরিবারে, যা পরে পরিবারের এক সদস্যের আপত্তিতে বন্ধ হয়ে যায়।

জানা যায়, এই প্রথাটি ছিল শাশুড়ি এবং নতুন বউমাকে ঘিরে, যেখানে শাশুড়ি তাঁর নতুন বউমার পা ছুঁতেন। এই রীতির সঙ্গে ছিল এক অস্বাভাবিক প্রতিজ্ঞা বিনিময়। ‘হিন্দুস্তান’-এর একটি রিপোর্ট অনুসারে, শাশুড়ি নববধূকে বলতেন, “তুমি পালকিতে করে এসেছ; তুমি আমার বাড়িতে পুত্রবধূ হিসেবে নয়, মেয়ে হিসেবে এসেছ।” জবাবে নববধূ বলতেন, “আমি পালকিতে করে এসেছি; আমি খাটিয়ায় করে (মৃত্যুর পর) বিদায় নেব।”

আশ্চর্যজনকভাবে, যখন এই প্রথাটি প্রচলিত ছিল, তখন অমিতাভ বচ্চন বা জয়া বচ্চন কেউই এর বিরোধিতা করেননি। এই প্রথাটি বন্ধ হয় যখন অমিতাভ বচ্চনের বাবা, কিংবদন্তি কবি হরিবংশ রাই বচ্চন, এর তীব্র আপত্তি জানান।

হরিবংশ রাই বচ্চনের হস্তক্ষেপ

হরিবংশ রাই বচ্চন তাঁর প্রথম স্ত্রী শ্যামার মৃত্যুর পর ১৯৪১ সালে তেজি বচ্চনকে বিয়ে করেন। তাঁদের বিবাহে কবি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তেজিকে এই ধরনের কোনো কথা বলতে হবে না বা এই প্রথা মানতে হবে না। তাঁর এই হস্তক্ষেপে বচ্চন পরিবারে প্রথাটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

যদি এই প্রথা বন্ধ না হতো, তবে এক সময় জয়া বচ্চনকে পুত্রবধূ ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনের পা ছুঁতে হতে পারত!

আজও অমিতাভ বচ্চন তাঁর ব্লগে এবং সাক্ষাৎকারে প্রায়শই তাঁর বাবার কবিতা এবং প্রিয় স্মৃতিগুলি স্মরণ করেন। বচ্চন পরিবার আজও বলিউড এবং ভারতে অন্যতম সম্মানিত পরিবার হিসেবে গণ্য হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy