ফ্রিজ খুলতেই চোখ কপালে তুলল পুলিশ! গুয়াহাটির বেলতলায় গৃহবধূর মাথা কাটা দেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য!

আসামের গুয়াহাটি শহর থেকে এক অত্যন্ত ভয়াবহ ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে, যা সমগ্র রাজ্যজুড়ে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। গুয়াহাটির বেলতলা এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে পুলিশ এক মহিলার আংশিক পচে যাওয়া মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার করেছে। সোমবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালায় এবং ঘরের মেঝে থেকে মহিলার দেহ এবং ফ্রিজের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো কাটা মাথাটি উদ্ধার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত মহিলার নাম রিয়া তালুকদার। তিনি গুয়াহাটির নুনমাটি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং স্থানীয় একটি বুটিকে কাজ করতেন। তাঁর স্বামী রামানুজন গোস্বামী পেশায় একজন ক্যাব চালক এবং তিনি অসমের ধুবড়ি জেলার বাসিন্দা। দম্পতিটি বেলতলা এলাকার ওই অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া থাকতেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দেহটি যেভাবে পচতে শুরু করেছিল, তাতে খুনটি ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগেই সংঘটিত হয়েছিল। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, সোমবারের অনেক আগেই হয়তো এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় রবিবার গভীর রাতে। প্রতিবেশীরা ওই ফ্ল্যাট থেকে একটি তীব্র ও পচা দুর্গন্ধ পান। এর পরেই স্থানীয় বাসিন্দারা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করতেই মেঝেতে একটি মাথাহীন ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ দেখতে পায়। এরপর চারদিকে তল্লাশি চালানোর সময় রান্নাঘরের ফ্রিজ খুলতেই পুলিশ আধিকারিকদের চোখ কপালে ওঠে। ফ্রিজের ভেতর একটি প্লাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে যত্ন করে লুকিয়ে রাখা কাটা মুণ্ডটি উদ্ধার করা হয়।

এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত তথা মৃতার স্বামী রামানুজন গোস্বামী ঘটনার পরেই পুলিশের কাছে নিজে থেকেই আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে মৃতার দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গুয়াহাটি পুলিশ জানিয়েছে, ময়না তদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্ট হাতে আসার পর এবং অভিযুক্তকে জেরা করার পরেই এই পৈশাচিক খুনের আসল রহস্য উন্মোচিত হবে।