বাংলাদেশের নির্বাচনী ফলাফলে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন কেবল শপথগ্রহণের অপেক্ষা। কিন্তু মসনদে বসার আগেই নিজের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দিলেন বিএনপি (BNP) নেতা তারেক রহমান। শনিবার এক বিশেষ বার্তায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে আর যেন কোনো ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি’ মাথা তুলতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশের ডাক:
লন্ডন থেকে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তারেক রহমান বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ যে দুঃশাসন ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সাক্ষী হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি আর হতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন:
গণতন্ত্রের মোড়কে যারা একনায়কতন্ত্র চালিয়েছে, তাদের বিচার হবে।
মানুষের বাকস্বাধীনতা এবং ভোটের অধিকার রক্ষা করাই হবে নতুন সরকারের অগ্রাধিকার।
প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে ঢেলে সাজানো হবে।
মোদী-তারেক ফোনালাপ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
শপথের আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তারেক রহমানের ফোনালাপকে একটি ‘কূটনৈতিক বিজয়’ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। মোদী তাঁকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী’ অবস্থান আসলে আন্তর্জাতিক দুনিয়াকেও আশ্বস্ত করার একটি প্রচেষ্টা।
শপথের প্রস্তুতি ও জনজোয়ার:
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বা বঙ্গভবনে শপথ নিতে পারেন তারেক রহমান। বিএনপি সূত্রে খবর, এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে একটি ‘জাতীয় উৎসবে’ রূপ দিতে চাইছে দল। সারা দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এডিটরের নোট: তারেক রহমানের এই কড়া বার্তা কি শুধুই রাজনৈতিক কৌশল, নাকি সত্যিই এক নতুন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা? এই পরিবর্তন প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ কতটা বদলে দেয়, সেটাই এখন দেখার।