রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। সোমবার নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক জনমুখী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করলেন। এর মধ্যে সবথেকে চর্চিত বিষয় হলো, রাজ্যে পুনরায় চালু হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ‘১০০ দিনের কাজ’ বা মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্প। তবে, প্রকল্প চালুর ক্ষেত্রে ‘দুর্নীতি’ নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন।
কোন দুই জেলা আপাতত বাদ? মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ের প্রকল্প থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ জেলাকে আপাতত বাদ রাখা হয়েছে। সূত্রের খবর, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এই দুই জেলা থেকেই ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ভুয়ো জব কার্ড, কাজ না করে টাকা তোলা এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই জেলায় কেন্দ্রীয় এই প্রকল্প শুরু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন।
প্রশাসনের লক্ষ্য: তৃণমূল জমানায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছিল, যার ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়েছিল। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে গ্রামীণ শ্রমজীবীদের মধ্যে স্বস্তির আশা জেগেছে। তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতিমুক্ত কাজের পরিবেশ গড়ে তুলতেই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
অন্যান্য বড় ঘোষণা:
আয়ুষ্মান ভারত: স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সুগম করতে রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৮ জুনের মধ্যে এই সংক্রান্ত চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান: বন্যার হাত থেকে ঘাটালকে বাঁচাতে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে (৫০:৫০ খরচের অনুপাতে) এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক জবাবদিহি: আগামী ১১ জুন নীতি আয়োগের বৈঠকের আগে প্রতিটি দপ্তরকে কাজের বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রতি মাসে সচিবদের সঙ্গে পর্যালোচনার মাধ্যমে কাজের গতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।
নতুন সরকারের এই একের পর এক জনকল্যাণমুখী ও কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছে। এখন দেখার, এই প্রকল্পগুলোর সঠিক রূপায়ণ কতটা দ্রুত ও দুর্নীতিমুক্তভাবে সম্পন্ন হয়।





