পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির আশা কি তবে বিশ বাঁও জলে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তেমনই ইঙ্গিত মিলছে। শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিনি আর নাও বাড়াতে পারেন। আর যদি তা-ই হয়, তবে ইরানের বুকে ফের মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে বোমা পড়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের ‘বোমা’ হুঁশিয়ারি
ট্রাম্পের কথায় ঝরে পড়েছে চরম কঠোরতা। তিনি বলেন, “হয়তো আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াব না। তবে মার্কিন নৌ-অবরোধ জারি থাকবে। আর দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের হয়তো ফের বোমা ফেলা শুরু করতে হবে।” আগামী বুধবার, ২২ এপ্রিল এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তার আগে কোনও স্থায়ী চুক্তি না হলে ট্রাম্প যে সামরিক পথে হাঁটতে দু’বার ভাববেন না, তা আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলিতে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় হোয়াইট হাউস।
পাল্টা তোপ তেহরানের: বন্ধ হবে হরমুজ?
ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহি মনোভাবের পর হাত গুটিয়ে বসে নেই ইরানও। ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে তারা ফের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দিতে পারে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও স্পষ্ট করেছেন, লেবানন ও ইজরায়েলে যুদ্ধবিরতি চললে তবেই হরমুজ খোলা রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ফলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়েও তৈরি হয়েছে বড়সড় অনিশ্চয়তা।
ইসলামাবাদে শেষ চেষ্টা?
এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই সিএনএন সূত্রের খবর, সোমবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন আলোচকরা ফের মুখোমুখি বসতে পারেন। এই বৈঠকে লেবানন ও ইজরায়েলের প্রতিনিধিদেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এর আগে ১১-১২ এপ্রিলের ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল। ১৯৭৯ সালের পর সেই প্রথম দু’দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বসলেও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। রবিবারের মধ্যে দুই দেশের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে।
২২ এপ্রিলের ডেডলাইনের আগে সোমবারের এই বৈঠকই এখন বিশ্ব শান্তির শেষ আশা। সেখানে রফাসূত্র না মিললে পশ্চিম এশিয়ায় এক প্রলয়ঙ্কারী সামরিক সংঘাত কেবল সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।





