ফের মহাপ্রলয়ের ফাঁদে নেপাল! ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পরেই বাঁধ ভেঙে ধেয়ে আসছে সর্বনাশা জলরাশি!

এক বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নেপালে ফের নেমে এসেছে এক ভয়াবহ আতঙ্ক। শুক্রবার চিনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশের লংচাং শহরের কাছে ৫.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। চিনের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী এই কম্পনের রেশ কাটতে না কাটতেই তিব্বতের দিক থেকে বিপুল জলরাশি হুড়মুড় করে কোশী ও ত্রিশূলী নদীতে ঢোকার ভয়ঙ্কর খবর সামনে এসেছে। তিব্বতের দিকে ফের একটি জলাধার বা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকায় নতুন করে মানুষ সরানোর কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে। নদীর জলস্তর আচমকা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে যে কোনো মুহূর্তে মারাত্মক হড়পা বান নেমে আসতে পারে, এই প্রবল আশঙ্কায় নুওয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান এবং গোর্খা-সহ বিস্তীর্ণ নদী অববাহিকায় চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নেপাল পুলিশের সাফ বার্তা, সময় নষ্ট না করে নদীর ধার ছেড়ে দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু জায়গায় চলে যান সাধারণ মানুষ।

গত ২৬ আগস্ট ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার ক্ষত এখনও শুকায়নি। সেই বিপর্যয়ের স্মৃতি টাটকা থাকতেই নতুন করে এই হ্রদ ভাঙার খবরে আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে। নেপাল পুলিশ আর সামান্য ঝুঁকিও নিতে চাইছে না। এলাকায় মোতায়েন সমস্ত নিরাপত্তাকর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। যাঁরা নদীর কাছাকাছি বা নিচু এলাকায় বসবাস করছেন, তাঁদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

ভূমিকম্প এবং ঠিক তার পরেই বাঁধ ভাঙার খবর একই সময়ে সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বহুগুণ বেড়ে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যার কারণ হিসেবে সিচুয়ানের এই ভূমিকম্পকে সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে না। প্রথমের দিকে ভূমিকম্পের সম্ভাব্য যোগসাজশের কথা উঠলেও, পরবর্তী বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে ওই কম্পন মূলত একটি বিশাল হিমবাহ ধস এবং বরফ-পাথরের প্রকাণ্ড প্রবাহের তৈরি হওয়া এক ধরনের ভূকম্পন-সংকেত মাত্র। অর্থাৎ, পূর্বের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে শুক্রবারের সিচুয়ানের এই নতুন ভূমিকম্পকে এক করে দেখার কোনো কারণ নেই বলেই মত প্রকাশ করেছেন ভূতত্ত্ববিদরা। তা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কাকে একেবারে হালকাভাবে নিচ্ছে না প্রশাসন। নদীর গতিপ্রকৃতির ওপর সারাক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত হাই অ্যালার্ট বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।