ফের বাংলা সফরে অমিত শাহ! জুন মাসে ১৫ দিনের সফরসূচিতে সীমান্তে কি বড় কোনো অভিযান?

রাজনৈতিক পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। সূত্রের খবর, আগামী জুন মাসের মাঝামাঝি, সম্ভবত ১৫ তারিখ নাগাদ ফের রাজ্য সফরে আসতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষার মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজ্য সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন সফরে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলি সরেজমিনে পরিদর্শন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বেআইনি অনুপ্রবেশ রুখতে কী ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তা নিয়ে বিএসএফ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করতে পারেন।

উল্লেখ্য, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে বিএসএফ-কে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন যে, পূর্ববর্তী সরকার রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ সময় ধরে এই জমি হস্তান্তরের কাজ আটকে রেখেছিল। তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে মোট ৪,০০০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ২,২০০ কিলোমিটারই পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। অথচ আক্ষেপের বিষয় হলো, এখনও প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া বসানো সম্ভব হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজনৈতিক তুষ্টিকরণের রাজনীতির ফলেই সীমান্ত সুরক্ষার কাজে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছিল।

বর্তমান সরকারের দাবি, বিএসএফ-এর সঙ্গে তাদের নিয়মিত সমন্বয় বজায় রয়েছে এবং সীমান্ত পাহারা আরও জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার যে প্রস্তাব ছিল, তাকেই এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাজ্য।

সবচেয়ে বড় চমক হলো, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে “ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট” বা শনাক্তকরণ, তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার—এই কঠোর নীতি কার্যকর করার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, সিএএ-র আওতাভুক্ত সাতটি সম্প্রদায়ের মানুষ, যারা ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে এসেছেন, তাদের কোনওভাবেই পুলিশি হয়রানি করা হবে না। তবে যারা এই আইনি সুরক্ষার বাইরে পড়ছেন, তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার, আটক এবং বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। অনুপ্রবেশ রুখতে রাজ্য ও কেন্দ্রের এই সমন্বিত উদ্যোগ সীমান্তবর্তী এলাকার জনবিন্যাস এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy