ফের নিট প্রশ্ন ফাঁস? পরীক্ষার আগেই ভাইরাল প্রশ্নপত্র, চরম আতঙ্ক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে!

আবারও বিতর্ক, আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার ঠিক আগেই নতুন করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। মেডিক্যালের প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি কি তবে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে?
গত মে মাসে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই গোটা দেশ জুড়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এনটিএ (NTA) বাধ্য হয়ে সেই পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষার দিন ঘোষণা করেছিল। সেই ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকায়নি, তার মধ্যেই ফের নতুন করে ভাইরাল হওয়া প্রশ্নপত্রের স্ক্রিনশট এনটিএ-র কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে ‘বিবিন’ নামক এক ব্যক্তির এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করা একটি স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে। ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, টেলিগ্রামের একটি গোপন গ্রুপ থেকে তিনি এই প্রশ্নপত্রের ছবিটি পেয়েছেন। স্ক্রিনশটটি পোস্ট করার সময় তিনি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন—নিট প্রশ্নপত্র কি ফের ফাঁস হয়ে গেল? মুহূর্তের মধ্যেই এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার মানুষ ছবিটি শেয়ার করে এনটিএ-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, স্ক্রিনশটে যে বুকলেট এবং নির্দেশিকা দেখা যাচ্ছে, তা অবিকল আসল নিট প্রশ্নপত্রের মতোই।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে দেখে আসরে নামতে বাধ্য হয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। সংস্থার তরফে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই প্রশ্নপত্রটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং ভিত্তিহীন। এটি কোনোভাবেই মূল প্রশ্নপত্রের সাথে সম্পর্কিত নয়।” একইসাথে এনটিএ-র পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ছবি যেন কেউ প্রচার না করেন। সংস্থার দাবি, সাইবার ক্রাইম বিভাগে এই ঘটনার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তবে এনটিএ-র সাফাই সত্ত্বেও বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারীদের একাংশ দাবি করছেন, প্রশ্নপত্রে থাকা সময় এবং অন্যান্য নির্দেশিকার সাথে পরীক্ষার নিয়মাবলীর মিল রয়েছে। তাদের মতে, এটি নিছক কাকতালীয় হতে পারে না। এনটিএ বারবার স্বচ্ছতার দাবি করলেও, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে আসায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আগামী ২১ জুন নির্ধারিত পরীক্ষাটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার এই ভাইরাল ছবি দেশের কোটি কোটি মেধাভিলাষী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় এক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এনটিএ-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা দেশ।