পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে রান্নার গ্যাসের জোগান ও আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কেন্দ্র গৃহস্থালির গ্যাসকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, বাণিজ্যিক গ্যাসের (Commercial Gas) জোগানে টান পড়ায় কার্যত কোণঠাসা হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বুকিংয়ের নিয়মেও কড়াকড়ি এনেছে—এখন থেকে ২৫ দিনের ব্যবধান ছাড়া দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুক করা যাবে না।
গ্যাসের এই অনিশ্চয়তায় মানুষ এখন ঝুঁকছে বিকল্প রান্নার সরঞ্জামের দিকে। কলকাতার চাঁদনী মার্কেট, এজরা স্ট্রিট থেকে শুরু করে বড় শোরুমগুলোতে ইনডাকশন কুকার ও ইলেকট্রিক কেটলির বিক্রি রাতারাতি তিনগুণ বেড়ে গিয়েছে। ‘খোসলা ইলেকট্রনিক্স’-এর পরিচালক মণীশ খোসলা জানান, আগে যেখানে দিনে ৪০-৪৫টি ইনডাকশন বিক্রি হতো, এখন তা ১৩০ ছাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের ভয়, আগামী দিনে গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে।
গ্রেট ইস্টার্ন রিটেইল এবং রায়পুর ইলেকট্রনিক্সের মতো বিক্রেতারাও জানিয়েছেন, শুধু ইনডাকশন নয়, মাইক্রোওয়েভ ওভেন এবং ইনডাকশন-উপযোগী বাসনের চাহিদাও তুঙ্গে। সল্টলেকের বাসিন্দা সুমেধা বাগলার কথায়, “গ্যাসের দাম পকেটে টান দিচ্ছে, তাই নির্ভরতা কমাতে ইনডাকশন কিনে রাখলাম।” একদিকে রান্নার গ্যাসের দাম একধাক্কায় ৬০ টাকা বৃদ্ধি, অন্যদিকে জোগান নিয়ে কড়াকড়ি—সব মিলিয়ে আমজনতার হেঁশেলে এখন ঘোর দুশ্চিন্তার ছায়া।