বলিউডের স্বঘোষিত চলচ্চিত্র সমালোচক তথা অভিনেতা কামাল রশিদ খান ওরফে KRK-এর সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। ১৮ই জানুয়ারির ‘ওশিওয়ারা ফায়ারিং’ কাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়ার পর, শনিবার বান্দ্রা আদালত তাঁকে ২৭শে জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
বন্দুক পরিষ্কার না কি হামলা? পুলিশের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সামনে KRK দাবি করেছেন যে, ঘটনাটি সম্পূর্ণ একটি দুর্ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে:
-
২০০৫ সালে উত্তরপ্রদেশ থেকে বন্দুকের লাইসেন্স পেয়েছিলেন তিনি।
-
সম্প্রতি মুম্বই পুরসভা নির্বাচনের বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর তিনি ভারসোভা থানা থেকে নিজের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রটি ফেরত নেন।
-
কেআরকে-র বয়ান অনুযায়ী, বাড়িতে বন্দুক পরিষ্কার করার সময় এটি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না দেখতে তিনি দুটি রাউন্ড গুলি চালিয়েছিলেন।
লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি এবং ‘ঝড়ো হাওয়া’র তত্ত্ব!
কেআরকে দাবি করেছেন, তিনি লোকান্ডওয়ালা ব্যাক রোডের একটি গাছের দিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রবল বাতাসের কারণে সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশের ‘নালন্দা’ বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে গিয়ে লাগে। সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে জনবহুল এলাকায় এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে পুলিশ তাঁর মোটিভ বা উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে।
ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই প্রথম মুখ খুললেন কেআরকে। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “কারও ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না। আমি একজন ব্যবসায়ী এবং দীর্ঘদিন ধরে মুম্বইতে আছি, কোথাও পালিয়ে যাচ্ছি না। আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিল্ম রিভিউ করি এবং স্পষ্ট কথা বলি বলেই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একটি পক্ষ আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”
পুলিশ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে যে, সত্যিই কি এটি অসাবধানতাবশত ঘটেছিল নাকি এর পেছনে অন্য কোনো শত্রুতা বা ভয় দেখানোর পরিকল্পনা ছিল।