ফাস্টট্যাগের নিয়মে বিরাট বদল! প্রতি বছর রিন্যুয়ালের ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্তি, কাদের মিলবে বড় ছাড়?

দেশের হাইওয়ে ও এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য এল এক অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ফাস্টট্যাগ (FASTag) নিয়মে এক বড়সড় সংশোধন করেছে, যা আজ থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে। এই নতুন নির্দেশিকা চালুর মূল লক্ষ্যই হলো টোল প্লাজা পারাপার করার পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত করা।
পূর্বে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের টোল ছাড় পেতে প্রতি বছর তাঁদের বিশেষ ফাস্টট্যাগ নবায়ন (Renew) করতে হতো। এর জন্য বারবার দীর্ঘ আবেদনপত্র এবং বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র জমা দেওয়ার ঝুটঝামেলা পোহাতে হতো। নতুন নিয়মের ফলে সেই বার্ষিক ঝামেলার স্থায়ী অবসান ঘটল। সংশোধিত নীতি অনুযায়ী, এখন আর প্রতি বছর ফাস্টট্যাগ রিন্যু করার প্রয়োজন হবে না। পরিবর্তে, প্রতিবন্ধকতার শতকরা হারের ওপর ভিত্তি করে ফাস্টট্যাগের দীর্ঘমেয়াদী বৈধতা নির্ধারণ করা হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মাত্রা ৭০ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে হলে, তাঁর জন্য ইস্যু করা ছাড়যুক্ত ফাস্টট্যাগটি এক টানা পাঁচ বছরের জন্য বৈধ থাকবে। অন্যদিকে, যাঁদের প্রতিবন্ধকতা ৪০ শতাংশের বেশি কিন্তু ৭০ শতাংশের কম, তাঁদের ফাস্টট্যাগের মেয়াদ হবে তিন বছর। এর ফলে ৩ বা ৫ বছরের জন্য বার্ষিক নবায়নের যাবতীয় ঝামেলা থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলবে। শুধুমাত্র নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেই যোগ্য ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পুনরায় অনলাইনে বা অফলাইনে আবেদন করতে হবে।
তবে সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই বিশেষ টোল ছাড়ের সুবিধা পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত কঠোরভাবে মানতে হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই সরকার-স্বীকৃত বৈধ প্রতিবন্ধী শংসাপত্র বা ইউডিআইডি (UDID) কার্ড জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট যানটিকে অবশ্যই ওই প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নামে অথবা বিশেষভাবে তাঁর ব্যবহারের জন্যই নিবন্ধিত থাকতে হবে। শুধুমাত্র এই বিশেষ ফাস্টট্যাগ যুক্ত নির্দিষ্ট যানবাহনের ক্ষেত্রেই টোল ছাড় প্রযোজ্য হবে। কোনো অযোগ্য ব্যক্তি এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট ফাস্টট্যাগ তৎক্ষণাৎ কালো তালিকাভুক্ত (Blacklist) করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আধুনিক ডিজিটাল নিয়ম চালুর ফলে টোল প্লাজাগুলোতে ফাস্টট্যাগ যাচাইকরণ প্রক্রিয়া যেমন দ্রুত হবে, তেমনই বহু মূল্যবান সময় বাঁচবে। একই সঙ্গে জাল নথি ব্যবহার করে টোল ছাড় পাওয়ার অসদুপায়গুলোও সফলভাবে রোধ করা সম্ভব হবে। যোগ্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এখন থেকে খুব সহজেই এনএইচএআই (NHAI) বা সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে এই দীর্ঘমেয়াদী ফাস্টট্যাগের জন্য আবেদন করতে পারবেন।