“ফাইল খুললেই শ্রীঘর!” হারের ভয়ে কি সিঁদুরে মেঘ দেখছেন মমতা? বিজেপির নিশানায় এবার সরাসরি ‘দিদি’!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিচ্ছে বিজেপি। এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শানিয়ে বিজেপি দাবি করল, তৃণমূল নেত্রী এখন ‘আতঙ্কিত’ হয়ে পড়েছেন। কারণ হিসেবে গেরুয়া শিবিরের দাবি— দুর্নীতির হাজার হাজার ফাইল ধুলো ঝেড়ে বের করতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং বিজেপির অভিযোগনামা। আর সেই ফাইল খুললেই প্রশাসনের অন্দরের একের পর এক কঙ্কাল বেরিয়ে আসবে, এই ভয়েই দিন কাটছে শাসকদলের।

বিজেপির মূল আক্রমণ: সম্প্রতি অমিত শাহের উপস্থিতিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে ‘অভিযোগনামা’ বা চার্জশিট প্রকাশ করেছে বিজেপি, সেখানে ১৫ বছরের ‘অপশাসন’ ও ‘দুর্নীতির’ লম্বা খতিয়ান দেওয়া হয়েছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দাবি—

“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছেন তাঁর পায়ের তলার মাটি আর শক্ত নেই। দুর্নীতির যে পাহাড় তৈরি হয়েছে, তার ফাইল একবার পূর্ণাঙ্গভাবে খোলা হলে দলের শীর্ষ স্তরের কেউই রেহাই পাবেন না। সেই হারের ভয় আর জেলযাত্রার আতঙ্ক থেকেই তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন।”

কেন তৃণমূলকে ‘আতঙ্কিত’ বলছে বিজেপি? বিজেপির যুক্তি অনুযায়ী, নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন বণ্টন এবং আবাস যোজনার মতো একাধিক কেলেঙ্কারিতে তৃণমূলের রাঘববোয়ালরা জড়িয়ে রয়েছেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, জনসভাগুলোতে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মেজাজ এবং ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনার’ কান্নার নেপথ্যে রয়েছে আসলে আসন্ন পরাজয় ও তদন্তের খাঁড়া এড়ানোর মরিয়া চেষ্টা।

তৃণমূলের পাল্টা জবাব: বিজেপির এই অভিযোগকে অবশ্য নস্যি করে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, প্রতিবার নির্বাচনের আগে বিজেপি ইডি-সিবিআই আর ‘ফাইল’ নিয়ে রাজনীতি করে। এতে বাংলার মানুষের কাছে তাদের গুরুত্ব বাড়ছে না বরং কমছে।

রিপোর্টের হাইলাইটস:

  • চার্জশিট বনাম ফাইল: বিজেপির ৪০ পাতার অভিযোগনামায় দুর্নীতির ১৪টি প্রধান ক্ষেত্র চিহ্নিত।

  • রাজনৈতিক তরজা: ভয় বনাম আস্থার লড়াই বলে অভিহিত করছেন অমিত শাহ-রা।

  • পরবর্তী পদক্ষেপ: এই চার্জশিট নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় প্রচার চালিয়ে মমতার ‘স্বচ্ছ ভাবমূর্তি’তে আঘাত করাই এখন বিজেপির লক্ষ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy