রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মেগা-ফলাফল ঘোষণার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপ এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রবিবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে নিউটাউনের ইকোপার্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। দিলীপের সাফ দাবি, তৃণমূল নিজেও বুঝতে পেরেছে যে বাংলায় এবার পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং বিজেপির সরকার গঠন এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
‘ফলতা হলো নির্বাচনের ব্ল্যাকস্পট’
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে দিলীপ ঘোষ একে গণতন্ত্রের ‘কলঙ্ক’ বা ‘ব্ল্যাকস্পট’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেও সেখানে ভোটারদের ভয় দেখানো ও ধমকানো হয়েছে। দিলীপ বলেন, “এত কড়াকড়ির মধ্যেও যারা ভোট দিতে বাধা দেয়, তাদের মুখোশ খুলে দেওয়া দরকার। কমিশন পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক কাজ করেছে।”
‘কালীঘাটের বৈঠকে হারের আতঙ্ক’
ভোট গণনার কৌশল ঠিক করতে কালীঘাটে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠককেও তীব্র কটাক্ষ করেছেন এই বিজেপি নেতা। দিলীপের দাবি, তৃণমূল এখন সেই সব সতর্কবার্তাই কর্মীদের দিচ্ছে, যা আগে বিজেপি দিত। তাঁর কথায়, “ওরা ভিতরে ভিতরে বুঝে গেছে যে মাটি সরে গিয়েছে। কর্মীদের অকারণে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে যাতে ভয় না পায়। আসলে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই লড়ছে শাসকদল।”
২০০ পার নিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘২০০ পার’ করার দাবিকে খোঁচা দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ওদের সংখ্যা ক্রমে নামছে, আর আমাদের গ্রাফ যত সময় এগোচ্ছে ততই উপরের দিকে যাচ্ছে। এক্সিট পোল থেকে শুরু করে মানুষের মেজাজ— সব বলছে বিজেপি এবার ২০০-র গণ্ডি পার করে সরকার গড়বে।”
হুমায়ুন কবীরকে নিশানায়
ফল ঘোষণার আগেই ‘শর্তসাপেক্ষ’ সমর্থনের ইঙ্গিত দেওয়া হুমায়ুন কবীরকেও একহাত নিয়েছেন দিলীপ। তিনি স্পষ্ট জানান, মাঝপথে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকার দিন শেষ। মানুষ এবার পরিষ্কার ম্যান্ডেট দেবে এবং কোনও ছোট দলের সাহায্য ছাড়াই বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসবে।
৪ মে ইভিএম খোলার পর দিলীপ ঘোষের এই আত্মবিশ্বাসী ভবিষ্যদ্বাণী কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। গণনার প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেট পেতে চোখ রাখুন ডেইলিয়ান্ট-এর পর্দায়।





