প্লেটে বিষ খাচ্ছেন না তো? পচা মাংস, বিষাক্ত রং খাবারে, কী কী রোগের ঝুঁকি?

রাজ্যজুড়ে চলা খাদ্য নিরাপত্তা সপ্তাহের অভিযানে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় রীতিমতো শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ। কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিতে হানা দিয়ে প্রশাসন দেখতে পেয়েছে ভয়াবহ ছবি। অভিযোগ উঠেছে, লোভনীয় করতে খাবারে মেশানো হচ্ছে নিষিদ্ধ রং, ব্যবহার করা হচ্ছে পচা ও বাসি মাংস। এমনকী অনেক জায়গায় ফ্রিজে মজুত খাবারের গায়ে ফাঙ্গাস বা ছত্রাক পর্যন্ত জমে থাকতে দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভেজাল ও দূষিত খাবার নিয়মিত শরীরে প্রবেশ করলে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা থেকে শুরু করে মারণ রোগ ক্যানসার পর্যন্ত বাসা বাঁধতে পারে।
বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. রজত বাসুর মতে, খাদ্যে ভেজাল বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুতর একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। দীর্ঘমেয়াদে ভেজাল খাবার খাওয়ার ফলে ক্যানসার, কিডনির মারাত্মক রোগ, লিভৃতির জটিলতা এবং স্নায়ুর নানা অসুখ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, বিশ্বে প্রতি বছর দূষিত খাবার খেয়ে প্রায় ৬০ কোটি মানুষ অসুস্থ হন এবং প্রায় ৪ লক্ষ ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। ভারতে ফল-সবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক, মাছ-মাংসে পচন রোধে ক্ষতিকর রাসায়নিক এবং মশলায় কৃত্রিম রঙের ব্যবহার যেভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা।
বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ রুদ্রনীল নন্দী জানান, খাবারে ব্যবহৃত ভেজাল রং কোষের অভ্যন্তরে মিউটেশন ঘটিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কোষ বিভাজনে সাহায্য করে, যা পরবর্তীতে ক্যানসারের রূপ নেয়। প্রশাসনের এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনস্বার্থে এই ধরনের কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত চালানো উচিত। অন্যদিকে, বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদার পচা মাংস ও ক্ষতিকর ফুড কালারের কুফল সম্পর্কে সতর্ক করে জানান যে বাসি ও ব্যাকটেরিয়াযুক্ত খাবার খেলে মারাত্মক ডায়েরিয়া, তীব্র পেটে ব্যথা এবং বমির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে কিছু কৃত্রিম ফুড কালার শরীরে অ্যালার্জি ও মারাত্মক চুলকানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।