ভালোবাসার টানে ঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার দিন কি তবে শেষ হতে চলেছে? অন্তত একটি নির্দিষ্ট রাজ্যে আইনি জটিলতা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। লুকিয়ে বা পালিয়ে গিয়ে বিয়ের প্রবণতা রুখতে এক কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। নতুন প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে গেলে পরিবারের অন্তত একজন সদস্যের বা অভিভাবকের সম্মতি এবং স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হতে চলেছে।
গুজরাট সরকার এই বিতর্কিত অথচ প্রভাবশালী নিয়মটি কার্যকর করার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল স্বয়ং এই বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। মূলত পাতিদার সমাজ এবং বিভিন্ন রক্ষণশীল গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতেই এই ভাবনা। তাঁদের দাবি, প্রেমের নামে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার ফলে সামাজিক এবং পারিবারিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে অপহরণ বা জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনাকেও ‘প্রেমের বিয়ে’ বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। নতুন এই নিয়মে পরিবারের অন্তত একজন সাক্ষীর স্বাক্ষর থাকলে জালিয়াতি বা জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনা কমবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিরোধীদের একাংশ এবং মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, প্রাপ্তবয়স্ক দুই নাগরিক কার সাথে জীবন কাটাবেন, তা তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এতে পরিবারের হস্তক্ষেপ বাধ্যতামূলক করা ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল। ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। তা সত্ত্বেও গুজরাট সরকার পালটা যুক্তি দিচ্ছে যে, গ্রামীণ এলাকায় শান্তি রক্ষা এবং অপরাধ কমানোর স্বার্থেই এই ধরণের সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। শীঘ্রই এই বিলটি বিধানসভায় পেশ হতে পারে বলে জানা গেছে।