বৃহস্পতিবার শহর কলকাতায় দেখা গেল এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন দৃশ্য। একদিকে যখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে, ঠিক তখনই সেখানে সশরীরে হানা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। ইডি আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই প্রতীকের বাড়ি থেকে ফাইল, ফোন এবং হার্ড ডিস্ক নিয়ে নিচে নেমে আসেন মুখ্যমন্ত্রী।
কী ছিল ওই হার্ড ডিস্কে? প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের হাতে থাকা হার্ড ডিস্ক ও ফোন দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, “আমাদের পার্টির সব গোপন তথ্য এই হার্ড ডিস্কে রয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা (Candidate List), নির্বাচনী কৌশল এবং দলের রণনীতি হাতানোর জন্যই অমিত শাহ এই ইডি পাঠিয়েছেন। প্রতীক আমার দলের ইনচার্জ, তাই আমি গিয়ে সব নিয়ে এসেছি।”
অমিত শাহকে নজিরবিহীন আক্রমণ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নিজে দেশ সামলাতে পারেন না, আর এখন ইডি পাঠিয়ে আমার দলের নথি চুরির চেষ্টা করছেন? ন্যাস্টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী! ওঁর এত সাহস কী করে হয়? আমি প্রতীককে ফোন করে সোজা চলে এসেছি। আমরা চাইলে কি বিজেপির অফিসে পুলিশ পাঠাতে পারি না?” তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা (SIR) থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েও যখন কাজ হচ্ছে না, তখন এভাবে রাজনৈতিক নথি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্র।
সল্টলেকের অফিসেও অভিযান লাউডন স্ট্রিট থেকে বেরিয়েই মুখ্যমন্ত্রী সোজা ছোটেন সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে। সেখানে ১১ তলায় গিয়েও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল উদ্ধার করে নিজের গাড়িতে তোলেন তিনি। পুরো সময়টাই তাঁর গাড়ি ঘিরে ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। তল্লাশির মাঝখানে কোনো রাজনৈতিক নেত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে অকুস্থলে পৌঁছে নথি নিয়ে আসা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে কার্যত বিরল ঘটনা। শাসক দলের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে দলীয় ‘গোপন তথ্য’ হাতানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে এটি এক প্রতিবাদী প্রতিরোধ।