প্রাকৃতিক গ্যাসের সুবিধা এবার পুরুলিয়ায়! রঘুনাথপুরে চালু হল CNG পরিষেবা, খরচ কমল অনেকটাই

পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর শহরে। শহরের ‘ঘোষাল অটো ফিলিং সেন্টার’ পেট্রোল পাম্পে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে কম্প্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (CNG) পরিষেবা। এর মধ্য দিয়ে, পুরুলিয়ার পরিবহণ ব্যবস্থায় একটি বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএনজি পরিষেবা শুরু হওয়ার পর থেকেই শহরের রাস্তায় বাড়তে শুরু করেছে সিএনজি-চালিত গাড়ির সংখ্যা। ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শুরু করে গণপরিবহণ— সব ক্ষেত্রেই চালকরা এই নতুন বিকল্পটি গ্রহণ করতে উৎসাহী। এর প্রধান কারণ, পেট্রোল এবং ডিজেলের তুলনায় সিএনজি ব্যবহার করলে খরচ অনেক কমে যায়। এছাড়া, সিএনজি-চালিত গাড়ি থেকে নির্গত ধোঁয়া তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর, যা বায়ুদূষণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে, খরচ সাশ্রয় এবং পরিবেশ সুরক্ষা— এই দুই সুবিধার কারণে সিএনজি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
যদিও নতুন এই পরিষেবা নিয়ে চালকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তবে কিছু প্রাথমিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বর্তমানে, সিএনজি পরিষেবাটি সীমিত সময়ের জন্য চালু আছে। ফলে, চালকদের একটি নির্দিষ্ট সময়েই গ্যাস ভরতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য কিছুটা অসুবিধাজনক। তবে, চালকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে পরিষেবা প্রদানের সময়সীমা বাড়ানো হবে, যা আরও বেশি চালককে এই বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করবে।
পেট্রোল পাম্পের কর্ণধার তপন ঘোষাল জানান, রঘুনাথপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই পরিষেবা চালু করার। সেই দাবি পূরণ করতে পেরে তিনি আনন্দিত এবং ভবিষ্যতে পরিষেবা আরও উন্নত করার জন্য কাজ করবেন। তার মতে, সিএনজি পরিষেবা চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে রঘুনাথপুর এখন শুধুমাত্র একটি শিল্পকেন্দ্রিক শহর নয়, বরং পরিবেশ-সচেতন আধুনিক শহরের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।