মালদহের কালিয়াচকে অ্যাডজুডিকেশন প্রক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ জনতা স্থানীয় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও করে এবং হেনস্তা করে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সরাসরি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ফোন করেছিলেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে। কিন্তু অভিযোগ, মুখ্যসচিব সেই ফোন ধরেননি এবং কোনো পালটা যোগাযোগও করেননি।
সুপ্রিম কোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ:
ফোন না ধরায় ক্ষোভ: বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, “একজন রাজ্যের মুখ্যসচিব হয়ে আপনি প্রধান বিচারপতির ফোন ধরেন না? আপনি কি নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন? এটি কেবল শিষ্টাচারের অভাব নয়, বিচারব্যবস্থাকে সরাসরি অবজ্ঞা করা।”
আইন-শৃঙ্খলায় গাফিলতি: আদালত পরিষ্কার জানিয়েছে, নির্বাচনের কাজ চললেও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা রাজ্য প্রশাসনের প্রাথমিক দায়িত্ব। মালদহের ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা স্পষ্ট।
ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ: সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, মুখ্যসচিবকে অবিলম্বে এই আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। প্রয়োজনে তাঁকে সশরীরে আদালতে হাজিরা দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
কেন এই পরিস্থিতি?
নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত বর্তমান মুখ্যসচিবের দাবি ছিল, তিনি অত্যন্ত জরুরি নির্বাচনী বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি মানতে নারাজ। আদালতের মতে, প্রধান বিচারপতির ফোন কল যে কোনো বৈঠকের চেয়ে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত ছিল।
প্রশাসনিক প্রভাব: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান নবান্ন এবং রাজভবনের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধকে আরও বাড়িয়ে দিল। বিরোধী দলগুলো একে ‘প্রশাসনিক দেউলিয়াপনা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। অন্যদিকে, কমিশন নিযুক্ত আধিকারিকদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠে গেল।





