মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বন্ধুত্ব’ নিয়ে ফের এক বিস্ফোরক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াশিংটনে হাউস রিপাবলিকানদের বৈঠকে ট্রাম্প এমন এক সুরে কথা বললেন, যাতে ভারতকে কার্যত এক অনুগত দেশ এবং মোদিকে তাঁর তুষ্ট করার চেষ্টায় থাকা নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, “মোদি জানত আমি খুশি নই, আর আমাকে খুশি করাটা গুরুত্বপূর্ণ।”
ট্রাম্পের গল্পের গরু কি গাছে? এদিনের বৈঠকে ট্রাম্প একটি নাটকীয় ঘটনার বর্ণনা দেন। তাঁর দাবি, ভারত সরকার ৬৮টি অ্যাপাচি যুদ্ধহেলিকপ্টার দ্রুত পেতে তাঁর ওপর চাপ দিচ্ছিল। ট্রাম্পের বয়ানে, “মোদি আমার কাছে এসে বললেন, ‘স্যার, আমি কি আপনাকে একটু দেখতে পারি?’” ট্রাম্পের এই ‘স্যার’ সম্বোধনের বর্ণনা নিয়ে এর আগেও বিতর্ক হয়েছে। মজার বিষয় হলো, সরকারি নথি বলছে ভারত মাত্র ২৮টি অ্যাপাচি অর্ডার করেছিল এবং সব কটিই ইতিমধ্যেই সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে ট্রাম্পের ‘৬৮’ সংখ্যাটি আসলে কোথা থেকে এল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
শুল্ক যুদ্ধে চাপে ভারত: ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা বললেও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কিন্তু মোদি সরকারকে বিন্দুমাত্র রেয়াত করছেন না ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ—
-
রাশিয়ান তেল: ইউক্রেন যুদ্ধ সত্ত্বেও রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ ‘পেনাল্টি ট্যারিফ’ চাপিয়েছেন ট্রাম্প।
-
মোদি ‘অখুশি’: ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর এই শুল্ক নীতির কারণে মোদি এখন তাঁর ওপর খুব একটা খুশি নন।
-
আমেরিকা ‘ধনী’ হচ্ছে: ট্রাম্পের দাবি, এই কড়া শুল্কের ফলেই আমেরিকা ৬৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পেতে চলেছে।
বাস্তব বনাম ট্রাম্পের দাবি: ট্রাম্প দাবি করেছেন ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা কমিয়েছে, কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ২০২৫-এর নভেম্বরেও ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিমাণ ছিল গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে মার্কিন চাপে রিলায়েন্সের মতো বড় সংস্থাগুলো জানুয়ারি থেকে রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করার কথা জানিয়েছে। ফলে রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমানোর জন্য আমেরিকা যে প্রবল চাপ তৈরি করছে, তা স্পষ্ট।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ‘হাউডি মোদি’ বা ‘নমস্তে ট্রাম্প’-এর সেই জাঁকজমকপূর্ণ বন্ধুত্বের সমীকরণ কি এখন কেবলই শুল্ক আর বাণিজ্যের দড়ি টানাটানিতে আটকে গেল? ট্রাম্পের এই কর্তৃত্বপূর্ণ মন্তব্য ভারতের কূটনৈতিক মহলে কতটা অস্বস্তি তৈরি করে, সেটাই দেখার।