প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও মুছে ফেলার ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে মেটা! কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে কড়া সাফাই বিশ্বখ্যাত সংস্থার

খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিডিওবার্তা ফেসবুক থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে মুছে যাওয়ার পর তৈরি হওয়া ব্যাপক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করল ফেসবুকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেটা। এর আগে যান্ত্রিক ত্রুটির কথা স্বীকার করে মেটা কর্তৃপক্ষ ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চাইলেও সেই ব্যাখ্যায় বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ দেশের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ভিআইপি ব্যক্তিদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় বিশেষ নজরদারি এবং বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখার আশ্বাস দিয়ে কেন্দ্রকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে মেটা কর্তৃপক্ষ।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, মেটার তরফে সাফ জানানো হয়েছে যে এখন থেকে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা ভিআইপি ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট দেখভালের ক্ষেত্রে তারা আরও অনেক বেশি দায়িত্বশীল ও যত্নবান হবে। এই ধরনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত কোনো পোস্ট শুধুমাত্র মেটার সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরাই খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি, কোনো পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে বা তা মুছে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি একাধিকবার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। শুধু তাই নয়, চলতি সপ্তাহের শেষেই মেটার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ভারত সরকারের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছে, যেখানে এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত ও খোলামেলা আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে ছাত্রবিক্ষোভ ও উত্তাল পরিবেশের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন যে সরকার প্রশ্নফাঁস রোধে অত্যন্ত কঠোর আইন আনতে চলেছে। কিন্তু সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিডিওটি হঠাৎ করেই কিছু সময়ের জন্য ফেসবুক থেকে উধাও হয়ে যায়। ভিডিওটির নির্ধারিত স্থানে একটি বার্তা ভেসে ওঠে যেখানে লেখা ছিল, “আইনি অনুরোধের কারণে এই পোস্টটি ভারতে পাওয়া যাচ্ছে না।” এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক এবং মেটার জননীতি সংক্রান্ত শীর্ষ আধিকারিককে তলব করা হয়। যদিও মেটা যান্ত্রিক গোলযোগ ও ভুলবশত তা মুছে যাওয়ার কথা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছিল, তবুও কেন্দ্র বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখে জানায় যে এই যুক্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় মাধ্যমগুলির মূল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা মেটার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের এই টানাপড়েন অবশ্য নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচার এবং ছাত্র আন্দোলনের জেরে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানোর নির্দেশ নিয়ে কেন্দ্র ও মেটার পারস্পরিক সম্পর্কে একপ্রকারের শীতলতা তৈরি হয়েছিল। তার ওপর দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও মুছে ফেলার মতো একটি সংবেদনশীল ঘটনা সেই বিতর্ককে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে মেটার এই নতুন আশ্বাসের পর কেন্দ্র ও সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টের এই দ্বৈরথ কতদূর প্রশমিত হয় এবং জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।