নেপালের রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘদিনের পুরনো রাজনৈতিক ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কাঠমান্ডুর বর্তমান মেয়র বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন শাহ’ নামেই সমধিক পরিচিত। নেপালের তরুণ প্রজন্ম বা ‘Gen Z’-এর কাছে তিনি শুধু একজন প্রশাসক নন, বরং এক আধুনিক আইকন। সম্প্রতি নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে প্রশ্ন উঠছে— তবে কি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে এই তরুণ তুর্কিকে?
র্যাপার থেকে মেয়র: এক রূপকথার সফর বালেন শাহের পরিচিতি কেবল রাজনীতিতে নয়। তিনি একজন দক্ষ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং নেপালের জনপ্রিয় হিপ-হপ শিল্পী। চোখে রোদচশমা আর স্টাইলিশ পোশাকে তাঁর ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ২০২২ সালে কোনো বড় রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছাড়াই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। কাঠমান্ডুর রাস্তা পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদ— তাঁর কাজের ধরণ তাঁকে সাধারণ মানুষের নয়নের মণি করে তুলেছে।
কেন তিনি নেপালের আগামী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চর্চায়?
-
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: নেপালের পুরনো দলগুলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ বারবার ওঠে, বালেন শাহ সেখানে এক স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রতীক।
-
ডিজিটাল উপস্থিতি: নেপালের তরুণ ভোটারের একটা বড় অংশ বালেন শাহের সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন এবং তাঁর আধুনিক চিন্তাধারার সমর্থক।
-
কাঠমান্ডু মডেল: মেয়র হিসেবে তাঁর সাফল্য দেখে অনেকেই মনে করছেন, তিনি যদি দেশের শাসনভার নেন, তবে নেপালের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
রাজনৈতিক সমীকরণ: বর্তমানে নেপালের সরকার গঠনে নানা টানাপড়েন চলছে। পুষ্পকমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’ বা কেপি শর্মা অলির মতো বর্ষীয়ান নেতাদের ভিড়ে বালেন শাহ এক নতুন বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। যদিও সরাসরি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তিনি কবে নামবেন তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে তাঁর দল বা তাঁর সমর্থিত গোষ্ঠী বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে।
নেপালের অলিতে-গলিতে এখন একটাই গুঞ্জন— “বালেন আসছে!”। এখন দেখার, সোশ্যাল মিডিয়ার এই সুপারস্টার সত্যিই কি নেপালের কুর্সিতে বসে ইতিহাস গড়তে পারেন কি না।