২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট মিটতেই বঙ্গ রাজনীতিতে কার্যত পরমাণু বোমা ফাটালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, প্রথম দফার ভোট শেষ হতে না হতেই তৃণমূল কংগ্রেস ম্যাজিক ফিগারের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে। শনিবার ডায়মন্ড হারবার থেকে অভিষেক সরাসরি দাবি করেন, তৃণমূল ইতিমধ্যেই ১০০-র গণ্ডি পার করে ফেলেছে এবং জয়ের এই ধারা কোথায় গিয়ে থামবে, তা তিনি নিজেও জানেন না।
মাইলফলক ছোঁয়ার দাবি: এদিন জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যালেঞ্জের সুরে বলেন, “আমি কোনোদিন ভুল রাজনৈতিক ভবিষ্যৎবাণী করি না। ২০২১ এবং ২০২৪-এ যা বলেছি, তা সত্যি হয়েছে। আজ লিখে নিন, প্রথম দফার ভোটেই আমরা সেঞ্চুরি করে ফেলেছি। এখন স্কোর ১০৫ নাকি ১১০— তা কেবল সময়ের অপেক্ষা।” তিনি আরও যোগ করেন, এবারের লড়াই কেবল জেতার নয়, বরং বিরোধী শিবিরকে ধুয়ে ফেলার।
অমিত শাহকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে অভিষেক বলেন, “ওঁরা বলেছিলেন আমার অফিস তালাবন্ধ করে দেবেন। কিন্তু আজ বিজেপি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলার মানুষ গুজরাটি গুণ্ডাদের ভাষাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।” অভিষেক হুঁশিয়ারি দেন, যদি সাহস থাকে তবে ৪ মে গণনার দিন পর্যন্ত যেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ময়দান না ছাড়ে।
ডবল সেঞ্চুরির হুঙ্কার: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেকের এই ‘ডবল সেঞ্চুরি’র দাবি দলের কর্মীদের মধ্যে যেমন উদ্দীপনা জোগাবে, তেমনই বিজেপি শিবিরের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে। গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এবার বিধানসভাতেও যে তাঁরা বিশাল ব্যবধানে জয়ী হতে চলেছেন, সেই লক্ষ্যই এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন ‘ভাইপো’।
নির্বাচন পরবর্তী সমীকরণ: প্রথম দফায় ৯৩.১৯ শতাংশ ভোটদানের রেকর্ড হারের পর অভিষেকের এই দাবিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না রাজনৈতিক মহল। বিরোধীদের দাবি, অভিষেক স্রেফ হার নিশ্চিত জেনে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এই ধরণের অবাস্তব পরিসংখ্যান দিচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ইভিএম কী বলছে, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৪ মে পর্যন্ত।





