পশ্চিমবঙ্গ সিপিআইএম-এর অন্দরে এখন সবথেকে বড় আলোচনার নাম প্রতীক উর রহমান। গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে নজর কাড়া এই তরুণ নেতার হঠাৎ ইস্তফাপত্র ঘিরে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এখন টানটান উত্তেজনা। প্রতীক তাঁর চিঠিতে সরাসরি জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কর্মপদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারার কথা জানিয়েছেন। এই ইস্তফাকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে এক অঘোষিত ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ শুরু হয়েছে।
আলিমুদ্দিনের কৌশলী অবস্থান: প্রতীক উর রহমানকে হারিয়ে ফেলা দলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলেই মনে করছেন প্রবীণ নেতারা। বিমান বসুর মতো প্রবীণ নেতা ইতিমধ্যেই তাঁকে দলে ধরে রাখতে সক্রিয় হয়েছেন। সিপিআইএম নেতৃত্বের একাংশের দাবি, প্রতীক যে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু সমাজ থেকে উঠে এসেছেন, তা দলের ‘শ্রেণিগত’ কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁকে ছেড়ে দেওয়া মানে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কেও ভুল বার্তা যাওয়া। তাই মহম্মদ সেলিম বা সমীক লাহিড়ীরা সরাসরি তাঁর সমালোচনা না করে ‘আলোচনার মাধ্যমে সমাধান’ করার পথে হাঁটছেন।
তৃণমূল যোগের জল্পনা: বিতর্কের মাঝে ঘি ঢেলেছে প্রতীকের তৃণমূলে যোগদানের গুঞ্জন। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোনো আসন থেকে তাঁকে আগামী বিধানসভায় প্রার্থী করতে পারে শাসক দল। যদিও প্রতীক নিজে এখনও এই বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে আলিমুদ্দিনের একাংশ মনে করছেন, দলেরই কিছু নেতার সঙ্গে প্রতীকের ‘মতাদর্শগত দূরত্ব’ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাঁর এই প্রস্থান এখন সময়ের অপেক্ষা। সব মিলিয়ে প্রতীকের ‘বিদ্রোহ’ এখন সিপিআইএম রাজ্য নেতৃত্বের কাছে এক বড় পরীক্ষা।