তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমানের আকস্মিক ইস্তফাপত্র আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে আক্ষরিক অর্থেই কম্পন সৃষ্টি করেছে। সোমবার তাঁর ইস্তফার খবর প্রকাশ্যে আসার পর বুধবার সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রতীক উরকে নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতভেদ থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তাঁকে দলে ধরে রাখার পক্ষেই সওয়াল করেছেন অধিকাংশ সদস্য।
রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সিদ্ধান্ত: বৈঠক শেষে আলিমুদ্দিন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতীক উরের ইস্তফা এখনই গ্রহণ করছে না দল। বরং রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী জানিয়েছেন, “প্রতীক উর আমাদের লড়াকু কমরেড। তাঁর কোনো অভিমান বা ক্ষোভ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমেই মেটানো হবে।”
নেপথ্যের কারণ: প্রতীক তাঁর চিঠিতে সরাসরি নেতৃত্বের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে দলের অভ্যন্তরে কিছু নেতার ব্যক্তিগত প্রচার এবং আদর্শগত বিচ্যুতি নিয়ে তিনি সরব হয়েছেন। আলিমুদ্দিনের একাংশ মনে করছে, ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে প্রতীকের মতো একজন সংখ্যালঘু মুখ এবং বাগ্মী নেতাকে হারানো দলের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বরং ‘মানভঞ্জনের’ পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলিমুদ্দিন।