প্রতিরক্ষায় ইতিহাস ভারতের! ৮৩% দেশি প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে সুপারসনিক ব্রহ্মোস, কাঁপছে বিশ্ববাজার

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণায় এক ঐতিহাসিক সাফল্য! বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘ব্রহ্মোস’ (Brahmos) এখন প্রায় সম্পূর্ণভাবেই ভারতীয় প্রযুক্তিতে সেজে উঠছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, বর্তমানে এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৮৩ শতাংশ যন্ত্রাংশ ও উপাদান দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এই দেশীয়করণের মাত্রা ৮৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে ভারত।
বিদেশি সরঞ্জামের দিন শেষ: ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস ক্রমাগত বিদেশি যন্ত্রাংশের পরিবর্তে ভারতীয় সরঞ্জাম ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে ক্ষেপণাস্ত্রের এয়ারফ্রেম, গাইডেন্স সিস্টেম, প্রোপালশন কম্পোনেন্ট এবং ইলেকট্রনিক্সের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাব-সিস্টেমগুলি এখন ভারতীয় সংস্থাগুলির থেকেই সংগ্রহ করা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশনির্ভরতা প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে।
প্রযুক্তির শিখরে ভারত: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মোসের মতো উচ্চগতিসম্পন্ন মারণাস্ত্রে ৮৩ শতাংশ দেশীয়করণ একটি বিরাট মাইলফলক। এখন টাইটানিয়াম কাস্টিং, এভিয়নিক্স এবং প্রোপালশন সিস্টেমের মতো জটিল যন্ত্রাংশ ভারতেই তৈরি হচ্ছে। আগামী দিনে বেশ কিছু উচ্চ-প্রযুক্তিগত উপকরণ ও বিশেষায়িত মেটেরিয়াল তৈরির কাজও দেশে শুরু হচ্ছে, যা দেশীয়করণের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেবে।
সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বড় সুবিধা: দেশীয় প্রযুক্তির এই জয়জয়কার ভারতীয় সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনার জন্য অত্যন্ত লাভজনক। এর ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সুরক্ষিত হয়েছে এবং যুদ্ধের সময় বিদেশি সাহায্যের প্রয়োজন পড়বে না। পাশাপাশি এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও সময় দুই-ই কমবে। সবথেকে বড় বিষয় হলো, এর ফলে ভারতের রফতানি সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে গেল, কারণ ভারত এখন উৎপাদন ও কাস্টমাইজেশনের ক্ষেত্রে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাবে।