প্রকৃতির রোষে বিপর্যস্ত অরুণাচল, ধসে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি তুঙ্গে

অরুণাচল প্রদেশে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত। বুধবার সকালে প্রবল বর্ষণের ফলে কেয়ি প্যানইওর জেলায় হড়পা বানে (Flash Flood) পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলার অন্তত ১৮টি বসতি এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হড়পা বানের তোড়ে বাড়িঘর ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় সড়কে ধস নামায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে যান চলাচল। এখনো পর্যন্ত তিন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দফতরের সচিব দানি সুলু জানিয়েছেন, ইয়াজালি সার্কলের অন্তর্গত পুসা এলাকার নিপকো প্রজেক্ট কলোনিতে হড়পা বানের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ভারী বৃষ্টিতে একটি নির্মীয়মান বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। নিচু এলাকাগুলিতে জলের প্রবল তোড়ে বহু মানুষের ঘরবাড়ি ভেসে গিয়েছে। নিখোঁজ তিনজনের সন্ধানে শুরু হয়েছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ।

প্রশাসনের তরফে পুলিশের সহকারী ডেপুটি কমিশনার, ডিএসপি এবং স্থানীয় সার্কল অফিসারদের অবিলম্বে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য এসডিআরএফ-এর (SDRF) একটি দল মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে এনডিআরএফ-কে (NDRF) সতর্ক রাখা হয়েছে এবং তাদেরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে উদ্ধারকার্যে যুক্ত হতে বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রাক্তন সেনা কর্মীদেরও জরুরিভিত্তিতে এই তল্লাশি অভিযানে সামিল করা হয়েছে।

সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নর্থ ইস্টার্ন ইলেক্ট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন (নিপকো) রঙ্গানদী বাঁধ থেকে জল ছাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে নিচু এলাকার বিপদ আরও বেড়েছে। সতর্কতা হিসেবে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ধসের কারণে পোতিন ও হজের কাছে তিনটি জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে বহু মানুষ বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়েছেন।

ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জাতীয় সড়ক সচল করার জন্য ঠিকাদার সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। গত কয়েকদিন ধরেই অরুণাচলের বিভিন্ন প্রান্তে অঝোর ধারায় বৃষ্টি চলছে। আবহাওয়া দপ্তর আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ রাজ্যবাসীকে নদী তীরবর্তী এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলি দ্রুত খালি করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।