পেলেট কাণ্ডে বড় ধোঁয়াশা! দিল্লি পুলিশের প্রথম এফআইআর-এ অভিযুক্তের জায়গায় কেন লেখা হলো ‘অজ্ঞাত’?

দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় বিক্ষোভ চলাকালীন পেলেট গুলিতে ১৯ বছরের তরুণ সাহিল লোচাবের জখম হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এই ঘটনায় দীর্ঘালিয়ার পর দিল্লি পুলিশ অবশেষে একটি এফআইআর দায়ের করলেও, সেখানে অভিযুক্তের নামের জায়গায় সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম না লিখে ‘অজ্ঞাত’ বা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা BNS-এর ১১৮ এবং ১২৫ ধারায় এই এফআইআর রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৮ নম্বর ধারায় বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত এবং ১২৫ নম্বর ধারায় মানুষের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এফআইআর-এ অভিযুক্তের নাম কেন ‘অজ্ঞাত’ রাখা হলো, তা নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক মহলে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৭৩ ধারা অনুযায়ী, অপরাধের প্রাথমিক পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযুক্তের নাম না জানা থাকলে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের নামে এফআইআর দায়ের করার আইনি সংস্থান রয়েছে। তাছাড়া, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় অনুযায়ী, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্তের নাম থাকা বাধ্যতামূলক নয়। বিক্ষোভের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে কে বা কারা পেলেট গান চালিয়েছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার পরই স্পষ্ট হবে। সেই কারণেই প্রাথমিক তদন্তের স্বার্থে এফআইআর-এ নাম রাখা হয়নি, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও নিরপেক্ষ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।