পেট চালাতে বেচেছেন সিঙাড়া-বড়া পাও! মুম্বইয়ের বস্তির সেই ছেলেই আজ NASA-র শীর্ষ বিজ্ঞানী!

সবাই স্বপ্ন দেখতে পারেন, কিন্তু সেই স্বপ্নকে সত্যি করার জন্য জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার সাহস খুব কম মানুষেরই থাকে। অভাবের সংসার, দু’বেলা পেটে ছিল না অন্ন, রাস্তার আলোয় বসে পড়াশোনা—একসময় স্কুলের বার্ষিক ফি দেওয়ার টাকাটুকুও ছিল না যাঁর কাছে, আজ তিনি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী! মুম্বইয়ের কুরলার এক ৮×১০ ফুটের অস্বাস্থ্যকর বস্তি থেকে আমেরিকার নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার—জয়কুমার বৈদ্যর এই সাফল্য পুরো বিশ্বের কাছে এক অলৌকিক প্রেরণা।

জয়কুমারের জীবনের গল্প অত্যন্ত ট্র্যাজিক। জন্মের আগেই তাঁর বাবা মা ও পরিবারকে ছেড়ে চিরতরে চলে যান। চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে একাই ছেলেকে বড় করার কঠিন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মা নলিনী বৈদ্য। পরিস্থিতি এতটাই মর্মান্তিক ছিল যে, বহু দিন বড়া পাও, সামোসা বা স্রেফ চা-পাউরুটি খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে তাঁদের। মাত্র ১১ বছর বয়স থেকেই মা-কে সাহায্য করতে কাজের সন্ধানে বের হতে হয় জয়কুমারকে। পরবর্তীতে মাত্র ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে টিভি মেরামতির কাজ এবং টিউশন পড়িয়ে নিজের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ টেনেছেন তিনি। সমাজের বহু মানুষ তাঁর দারিদ্র দেখে উপহাস করে ‘গাড়ি চালক’ হওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন। কিন্তু জয়কুমারের নজর ছিল আকাশের তারা ও মহাকাশের দিকে।

দারিদ্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জয়কুমার মুম্বইয়ের কেজে সোমাইয়া কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন এবং পরে দেশের বিখ্যাত সংস্থা টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ (TIFR)-এ গবেষণার সুযোগ পান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মেধার জোরে সুযোগ পান আমেরিকার বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়ায় ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে উচ্চশিক্ষার।

আজ সেই জয়কুমার বৈদ্য নাসার ‘গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার’-এর প্ল্যানেটারি এনভায়রনমেন্টস ল্যাবরেটরিতে বিশ্বমানের গবেষণায় যুক্ত। বিশেষ করে মঙ্গলগ্রহের (Mars) বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত MAVEN অভিযানের অত্যন্ত সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ নিয়ে তিনি কাজ করছেন। আজ গোটা বিশ্ব যখন ভারতের এই সন্তানের মেধা ও দক্ষতাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে, তখন জয়কুমার তাঁর এই অর্জনের সমস্ত কৃতিত্ব সমর্পণ করেছেন তাঁর মা নলিনী বৈদ্যকে। জয়কুমারের এই অবিশ্বাস্য লড়াই প্রমাণ করে দেয়—মানুষের শুরুটা যেখানেই হোক, কঠোর পরিশ্রমে আকাশ ছোঁয়া সম্ভব।