ব্রেস্ট ক্যানসার মানেই কি শুধু লাম্প? অজান্তে শরীরে ফুটে ওঠা এই ৬টি মারাত্মক লক্ষণ অবহেলা করছেন না তো?

ব্রেস্ট ক্যানসার বা স্তন ক্যানসারের নাম উঠলেই সবার আগে মাথায় আসে স্তনে কোনো মাংসপিণ্ড বা লাম্পের কথা। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ব্রেস্ট ক্যানসার মানেই যে সবসময় লাম্প বা ডেলা থাকবে, এমনটা কিন্তু একেবারেই নয়। অনেক সময় অত্যন্ত সাধারণ মনে হওয়া ছোটখাটো শারীরিক পরিবর্তনের হাত ধরেই এই মারণ রোগ শরীরে বাসা বাঁধে।

প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক সতর্কবার্তা চিনতে পারলে এবং সময়মতো চিকিৎসা ও ম্যামোগ্রাম করালে এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। তাই লাম্প ছাড়াও শরীর যে সূক্ষ্ম সংকেতগুলি দিয়ে থাকে, সেগুলির বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।

⚠️ যে লক্ষণগুলি ভুলেও এড়িয়ে যাবেন না

  • ১. ত্বকের পরিবর্তন ও গর্ত হওয়া: স্তনের ত্বকে সামান্য পরিবর্তন এলেও তা হালকাভাবে নেবেন না। ত্বকে হঠাৎ ছোট গর্ত তৈরি হওয়া বা চামড়া ভেতরের দিকে টেনে ধরা বিপদের লক্ষণ। এছাড়া স্তনের ত্বক যদি কমলালেবুর খোসার মতো খসখসে হয়ে যায়, তবে তা ক্যানসারের অন্যতম প্রধান ইঙ্গিত হতে পারে।

  • ২. নিপলের পরিবর্তন: স্বাভাবিক থাকা নিপল যদি হঠাৎ ভেতরের দিকে ঢুকে যায় বা আকৃতি বদলে যায়, তবে সতর্ক হোন। নিপলের চারপাশের ত্বক লাল হয়ে ফুলে যাওয়া, চামড়া ওঠা বা সারাক্ষণ চুলকানিও ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

  • ৩. অস্বাভাবিক রস বা তরল নির্গমন: গর্ভাবস্থা বা স্তন্যপানের সময় ছাড়া নিপল থেকে নিজে থেকেই কোনো তরল বা রক্তমিশ্রিত রস বের হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

  • ৪. স্তনের আকার ও আকৃতিতে বদল: হঠাৎ করে যদি একটি স্তনের আকার অন্যটির তুলনায় বদলে যায়, একদিক ফুলে ওঠে কিংবা স্তনের বাঁকে কোনো অসঙ্গতি দেখা দেয়, তবে তা পরীক্ষা করানো উচিত।

  • ৫. বগল ও ঘাড়ে ফোলাভাব: শুধু স্তন নয়, বগল বা কলার বোনের নিচের অংশে ছোট কোনো ফোলাভাব বা মাংসপিণ্ড ব্রেস্ট ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। ক্যানসার কোষ লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়লে স্তনে লাম্প তৈরি হওয়ার আগেই এই ফোলাভাব দেখা যায়।

  • ৬. একটানা ব্যথা বা অস্বস্তি: ঋতুচক্রের বাইরে স্তন বা বগলের কোনো নির্দিষ্ট অংশে একটানা জ্বালা, ভারী ভাব বা ব্যথা অনুভব করলে তা মোটেও অবহেলা করা ঠিক নয়।

🩺 নিজে পরীক্ষা ও আগাম সতর্কতা

  • নিজে স্তন পরীক্ষা (Self-Examination): ২০ বছর বয়সের পর থেকে সমস্ত মহিলারই মাসে অন্তত একবার নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা করা উচিত। পিরিয়ড শেষ হওয়ার ৩ থেকে ৫ দিন পর এই পরীক্ষা করার আদর্শ সময়।

  • ম্যামোগ্রাম স্ক্রিনিং: বয়স ৪০ পেরোলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বছরে অন্তত একবার ম্যামোগ্রাম করানো উচিত, যাতে খালি চোখে না ধরা পড়া পরিবর্তনও প্রথম পর্যায়েই শনাক্ত করা যায়।