পেট্রল-ডিজেল ছাড়াই আকাশে উড়বে গাড়ি! পাহাড়ের বুকে বিপ্লব ঘটালেন উত্তরাখণ্ডের যুবক

রাস্তাঘাটের যানজট এবং পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্গম রাস্তা—এই দুই সমস্যার মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হয়েছেন উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলার কাফলিকান গ্রামের তরুণ উদ্ভাবক রবি তনতা। আধুনিক প্রযুক্তি ও নিজস্ব মেধার সমন্বয়ে তিনি তৈরি করেছেন একটি বৈদ্যুতিক ব্যক্তিগত উড়ান যান বা ‘পার্সোনাল ফ্লাইং ভেহিক্যাল’। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে ভারতের আকাশ পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংবাদসূত্রে জানা গেছে, রবি তনতা তাঁর নিজস্ব স্টার্টআপ সংস্থা ‘হাপিডা স্কাই প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ব্যানারে দীর্ঘ কয়েক বছরের নিরলস গবেষণা ও কঠোর পরিশ্রমের পর এই উড়ানযানের প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন। জাগেশ্বর ধামের কাছাকাছি এলাকায় সম্প্রতি তাঁর এই পরীক্ষামূলক উড়ানযানটি সফলভাবে আকাশে পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছে। সবচেয়ে বড় চমক হলো, এই যানটি চালানোর জন্য কোনো পেট্রল বা ডিজেলের প্রয়োজন নেই। সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক শক্তিতে চালিত এই যান পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরাখণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড এই ধরনের নেক্সট-জেনারেশন আকাশ পরিবহণ পরীক্ষার জন্য একদম আদর্শ। সড়কপথের বিকল্প হিসেবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতে বহু ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে পারে। বিশেষ করে ভূমিধস বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় যখন সড়কপথ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন দুর্গম এলাকায় দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া বা জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই উড়ানযান আশীর্বাদস্বরূপ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া, যে সব পাহাড়ি এলাকায় আজও সড়ক পরিকাঠামো উন্নত নয়, সেখানে যোগাযোগের নতুন পথ খুলে দিতে পারে রবি তনতার এই উদ্ভাবন। পাশাপাশি, পর্যটন শিল্পেও এই প্রযুক্তির প্রয়োগ বড় ধরনের গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে এই প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যবহারের পথে আরও বেশ কিছু প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং সরকারি আইনি অনুমোদনের প্রক্রিয়া বাকি আছে। তবে, ভারতের মতো দেশে যেখানে যানজট একটি নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা, সেখানে ব্যক্তিগত উড়ানযানের এই প্রোটোটাইপ তৈরি হওয়া নিঃসন্দেহে এক বিশাল মাইলফলক। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই উড়ানযান একদিকে যেমন মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করবে, অন্যদিকে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিশ্বমঞ্চে ভারতের পরিচিতি আরও দৃঢ় করবে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা—কবে এই উড়ানযান বাণিজ্যিকভাবে মানুষের যাতায়াতের সঙ্গী হয়ে ওঠে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty