বিশ্বজুড়ে যখন যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হয়, তখন শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো তাদের তুরুপের তাস বের করতে শুরু করে। এই মুহূর্তে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আমেরিকার তৈরি বিশেষ এক বিমান, যা আক্ষরিক অর্থেই এক ‘উড়ন্ত দুর্গ’। বৈজ্ঞানিক ভাষায় একে ‘E-4B নাইটওয়াচ’ বলা হলেও বিশ্বজুড়ে এটি ‘ডুমসডে প্লেন’ (Doomsday Plane) নামেই বেশি পরিচিত। এই বিমানের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো—এটি একটানা সাত দিন বা ১৬৮ ঘণ্টা আকাশে উড়তে সক্ষম।
কেন এটি সাধারণ বিমানের চেয়ে আলাদা?
পরমাণু হামলা প্রতিরোধ: এই বিমানটিকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এটি পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর তৈরি হওয়া ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস (EMP) অনায়াসে এড়াতে পারে। অর্থাৎ, মাটিতে সব ধ্বংস হয়ে গেলেও আকাশের এই বিমানটির কমিউনিকেশন সিস্টেমে কোনো আঁচ লাগবে না।
আকাশেই জ্বালানি: একটানা সাত দিন ওড়ার রহস্য হলো এর ‘এয়ার টু এয়ার রিফুয়েলিং’ ক্ষমতা। আকাশে ওড়া অবস্থাতেই অন্য ট্যাঙ্কার বিমান থেকে এটি জ্বালানি ভরে নিতে পারে।
উড়ন্ত কমান্ড সেন্টার: এই বিমানে রয়েছে অত্যাধুনিক কৃত্রিম উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বা প্রতিরক্ষা সচিব পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের সামরিক বাহিনী, এমনকি জলের তলায় থাকা সাবমেরিনের সঙ্গেও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখতে পারেন।
এটি কেবল একটি বিমান নয়, বরং এক সংকটকালীন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। যখন স্থলপথের সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন এই বিমানটিই হয়ে ওঠে দেশের শেষ ভরসা। এতে একযোগে ১১২ জন যাত্রী থাকতে পারেন এবং এর ভেতরে রয়েছে মিটিং রুম থেকে শুরু করে বিশ্রামের বিলাসবহুল ব্যবস্থা। ডুমসডে প্লেনের এই অবিশ্বাস্য প্রযুক্তি প্রমাণ করে যে, চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তেও আকাশ থেকেই পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে আধুনিক বিজ্ঞান।





