পুলিশ-বন্ধুর সাহায্যেই রক্ষা! রোড ট্রিপে সপরিবারে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার মুখে জয়জিৎ, কলকাতায় ফিরতে হলো রেলের আরপিএফ গাড়িতে

সপরিবারে পুরী-ভাইজ্যাক রোড ট্রিপ শেষ করে কলকাতায় ফেরার পথে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। অলৌকিকভাবে এই যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন তিনি ও তাঁর মা-বাবা এবং ছেলে যশোজিৎ। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার ভুবনেশ্বর হাইওয়ের উপর।

রবিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার নিজের বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় খানিকটা ক্লান্ত গলায় ফোন মারফত অভিনেতা নিজেই এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

ঠিক কী ঘটেছিল?

অভিনেতা জানান, সপরিবারে ভাইজ্যাক রোড ট্রিপ শেষ করে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে ফিরছিলেন। ভুবনেশ্বর পার হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পরে সকাল ১০টা নাগাদ হাইওয়ের উপর দুর্ঘটনাটি ঘটে।

জয়জিৎ বলেন, “সত্যি বলছি মারাই যেতাম। নেহাৎ চালক হিসেবে আমি যথেষ্ট ভাল বলেই বেঁচে গিয়েছি।”

দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “আমার গাড়ি আর একটি লরি দুটোই খুব গতিতে চলছিল। হঠাৎ লরিটা বাঁ দিক থেকে ওভারটেক করে এমনভাবে চেপে দেয় যে আমার গাড়ির সামনের ডান দিকের চাকার অ্যাক্সেলটা ভেঙে যায়! স্বভাবতই ডান চাকাটা ডিভাইডারে লেগে পুরো ঘুরে গিয়েছিল! গাড়ি উলটে যায়নি, আমার ভাগ্য। আর হলে? ওখানেই…!”

অভিনেতার অনুমান, তিনি জীবনে কারও অপকার করেননি বলেই ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন।

পুলিশ-বন্ধুর সাহায্যে বাড়ি ফেরা

দুর্ঘটনার পর কলকাতায় ফেরা ছিল আরও বড় চ্যালেঞ্জ। লরির ধাক্কায় গাড়ির অ্যাক্সেল ভেঙে যাওয়ায় সেটি মেরামতের জন্য ভুবনেশ্বরের ডিলারের কাছে পাঠাতে হয়। কাগজপত্রের সই-সাবুদের জন্য রাস্তার পাশে গাছের ছায়ায় জলটুকু ছাড়া বসে থাকতে হয় জয়জিৎ ও তাঁর পরিবারকে।

এরপরই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তাঁর হাওড়া পুলিশের এক বন্ধু, নাম সুদীপ। জয়জিৎ তাঁর বন্ধুকে সমস্যার কথা জানালে, তিনি খড়্গপুর পুলিশ এবং সেখান থেকে ভুবনেশ্বরের রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেন।

শেষমেশ আরপিএফ জওয়ানদের জন্য রাখা একটি বিশেষ গাড়িতে কোনোক্রমে জায়গা করে দেওয়া হয় অভিনেতার পরিবারকে। সেই গাড়িতে চেপেই রবিবার সকালে কলকাতায় পৌঁছন তাঁরা। কলকাতায় তাঁর পুলিশ-বন্ধুটি আগে থেকেই একটি গাড়ি ঠিক করে রেখেছিলেন, তাতে চেপেই বাড়ি ফেরেন জয়জিৎ।

অভিনেতা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “সত্যি বলছি, পুলিশ পাশে না থাকলে বিপদ আরও বাড়ত। খুব সাহায্য পেয়েছি পুলিশের তরফে। ওঁরা পাশে না থাকলে ভোগান্তি আরও বাড়ত, বিপদ যে কত কী হতে পারত।”

প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার পর জয়জিৎ প্রথমে একটি পোস্ট করেছিলেন, যা দেখে উদ্বিগ্ন অনুরাগীরা ফোন করতে শুরু করলে পরে তিনি সেটি মুছে দেন। তবে বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবার সুস্থ আছেন।