নিয়মিত রাজনৈতিক বিরোধীদের মুখে পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও, এবার রাজ্যের শাসক দলের নেতার সুরেই পুলিশের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললেন খোদ পুলিশ কর্মীই। বীরভূমের সিউড়ি থানার এএসআই রাজকুমার দাস-এর একটি অডিয়ো ক্লিপ ঘিরে জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ওই এএসআই সরাসরি তাঁর ঊর্ধ্বতন অফিসার, ডেপুটি পুলিশ সুপারের (DSP) বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। বিরোধীরা এই ঘটনাকে ‘পুলিশের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
ফেসবুকে ভাইরাল অডিয়ো: ‘ডিএসপি হলো ক্রিমিনাল’
এএসআই রাজকুমার দাস তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি অডিয়ো পোস্ট করেছেন, যেখানে তাঁকে সরাসরি বীরভূমের ডেপুটি পুলিশ সুপারের (কুণাল মুখোপাধ্যায়, বিজেপি-র দাবি অনুসারে) বিরুদ্ধে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। ভাইরাল হওয়া সেই অডিয়োতে রাজকুমারকে বলতে শোনা যায়:
“আমাদের ট্রান্সফার করে আমাদের সর্বনাশ করে ডিএসপি আসলে এসপি সাহেবের কাছে ভাল থাকছেন। ডিএসপি-র মতো আর কোনও ক্রিমিনাল নেই। যদি প্রমাণ চান, তাহলে আমি সব প্রমাণ দিয়ে দেব।”
শতাব্দী রায়ের জুতো-কাণ্ডের প্রসঙ্গ
ওই এএসআই-এর দাবি, ডিএসপি পুলিশ সুপারকে ভুল বুঝিয়েছেন। রাজকুমার দাসের আরও অভিযোগ, সাংসদ শতাব্দী রায় যখন জুতো-হামলার শিকার হয়েছিলেন, তখন ডিএসপি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “পুরো দোষ ওঁর। যদি কারও পানিশমেন্ট হওয়ার কথা থাকে, তাহলে সেটা একমাত্র ডিএসপি-র, আর কারও নয়।”
প্রসঙ্গত, সপ্তাহখানেক আগে এসআইআর ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। সাংসদের সামনেই তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বলরাম বাগদির ওপর হামলা হয় এবং আক্রান্ত নেতাকে বাঁচাতে গেলে তৃণমূল সাংসদের গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো ছোড়া হয়।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া: অভিযোগ সত্যি, মদত ছিল ডিএসপি’র
বিজেপি এই ঘটনায় ডিএসপি-র বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে সমর্থন করেছে। বীরভূম সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সহ সভাপতি দীপক দাস বলেন, “শতাব্দী রায়ের গাড়িতে যেভাবে জুতো মারা হয়েছে, সেটা কোনও ভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে ঘটেছিল। রাজকুমার দাস যেটা বলেছিলেন, সেটা খুব একটা ভুল নয়। পুলিশের নোংরামি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা উচিত নয়। ক্রিমিনাল কি না বলতে পারব না, তবে কুণাল মুখোপাধ্যায়ের যে মদত ছিল, তা অস্বীকার করা যায় না।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বীরভূম জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে।