নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঝেই এবার আইনি জালে জড়িয়ে পড়লেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক তথা ২০২৬ নির্বাচনের হেভিওয়েট প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ। কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়ি মহকুমা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।
ঠিক কী বলেছিলেন শঙ্কর ঘোষ?
ঘটনার সূত্রপাত শিলিগুড়ির একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, আন্দোলন চলাকালীন পুলিশি বাধার মুখে পড়ে মেজাজ হারান বিজেপি নেতা। সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তাঁকে বলতে শোনা যায়,
“কী হাল করে ছাড়ব, আপনারা ভাবতে পারবেন না। দিন তো আসবে, তখন বুঝে নেব।”
এই বক্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
এফআইআর-এ কোন কোন অভিযোগ?
পুলিশ সূত্রে খবর, সরকারি কর্মীকে কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া, জনসমক্ষে ভয় দেখানো এবং অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর ধারায় শঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশের দাবি, এক জন জনপ্রতিনিধি হয়ে খাকি উর্দির সম্মানহানি এবং ব্যক্তিগতভাবে হেনস্থার হুমকি দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
শঙ্করের পাল্টা সাফাই
আইনি পদক্ষেপের খবর শোনার পর শঙ্কর ঘোষ অবশ্য দমে যাওয়ার পাত্র নন। তাঁর পাল্টা দাবি:
পুলিশি অতিসক্রিয়তা: পুলিশ রাজনৈতিক দলের ক্যাডারের মতো কাজ করছে বলেই তিনি প্রতিবাদ করেছেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা: তাঁর জয় নিশ্চিত জেনেই শাসক দল পুলিশকে ঢাল করে তাঁকে নির্বাচন থেকে দূরে সরানোর ষড়যন্ত্র করছে।
ভয় পাবেন না: মামলার হুমকিতে তিনি ভীত নন এবং মানুষের স্বার্থে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়া
বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হতেই গেরুয়া শিবির বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি—বিজেপি নেতারা আইনের তোয়াক্কা করেন না, তাই প্রশাসনের উচিত শঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া।
ভোটের ঠিক আগে শঙ্কর ঘোষের এই আইনি লড়াই কি তাঁর জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলবে, নাকি একেই হাতিয়ার করে আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে নামবে বিজেপি? এখন সেটাই দেখার।





