পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা SIR (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু করল নির্বাচন কমিশন। সোমবার থেকেই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। মূলত যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে বা যাঁদের নাম বিচারাধীন (Under Review) অবস্থায় ছিল, তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ করতেই এই শুনানি প্রক্রিয়া।
ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের মূল দিকগুলি:
সরাসরি শুনানি: যে সমস্ত নাগরিকদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের ট্রাইব্যুনালে তলব করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র (আধার কার্ড, বাসস্থানের প্রমাণপত্র ইত্যাদি) যাচাই করা হচ্ছে।
বিচারাধীন আবেদন: বহু মানুষ অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁরা বৈধ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তালিকা থেকে নাম বাদ গেছে। সেই আবেদনগুলো এবার বিচার বিভাগীয় স্তরে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোমবার থেকে সক্রিয়তা: জেলা স্তরে বিশেষ আধিকারিকদের নিয়োগ করে এই শুনানি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশে কোনো বাধা না থাকে।
কেন এই পদক্ষেপ? নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হলো একটি ‘ত্রুটিমুক্ত’ ভোটার তালিকা তৈরি করা। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগ তুলেছিল যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অনেক বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল চালুর মাধ্যমে কমিশন সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে চাইছে।
ভোটারদের জন্য করণীয়: যাঁদের নাম বাদ পড়েছে বা নথিতে ভুল আছে, তাঁদের ট্রাইব্যুনাল থেকে পাঠানো নোটিশ বা নির্দিষ্ট দিনে হাজির হয়ে নিজেদের সপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে হবে। সঠিক তথ্য দিলে তালিকা থেকে বাতিল হওয়া নাম পুনরায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
উপসংহার: ২০২৬-এর লড়াই শুরুর আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাইব্যুনাল যদি দ্রুত কাজ শেষ করতে পারে, তবে প্রকৃত ভোটাররা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।





