পুরুষ দেহে নারী সত্ত্বা, হাজারো কটাক্ষ সত্ত্বেও দমে যাননি! রূপটানে পারদর্শী ঝাড়গ্রামের সোনাইয়ের সাফল্যের গল্প

ঝাড়গ্রামের সোনাই নামের এক রূপান্তরকামী নারীর গল্প যেন সমাজের বিরুদ্ধে এক অপ্রতিরোধ্য লড়াইয়ের কাহিনি। শারীরিকভাবে পুরুষ হয়েও যিনি নিজেকে মানসিকভাবে একজন নারী মনে করতেন। তাঁর এই সত্তার জন্য তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে সমাজের হাজারো কটাক্ষ ও গঞ্জনা। কিন্তু আজ তিনি সফল বিউটি স্যালন ‘অন্বেষা’র কর্ণধার, যা তাঁর অদম্য জেদ এবং তাঁর মায়ের সমর্থনকেই তুলে ধরে।

লড়াইয়ের শুরু

সোনাইয়ের মা অন্বেষা নন্দী নিজের পরিবারের অমতে কলকাতা থেকে বিউটিশিয়ান কোর্স করেছিলেন। প্রথমে তিনি মানিকপাড়া এলাকায় একটি ছোট পার্লার শুরু করেন, এরপর ধাপে ধাপে নিজের কাজ দিয়ে নাম করে নেন। বর্তমানে ঝাড়গ্রামের পাঁচমাথা মোড়ের কানাগলি মার্কেটে তাঁর অন্বেষা বিউটি স্যালন যথেষ্ট পরিচিত। মায়ের এই লড়াইয়ের পথেই সোনাই বড় হয়েছেন। ছোটবেলা থেকে নিজেকে নারী হিসেবে অনুভব করা সোনাই যখন নিয়মিত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রূপান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁকে অনেক কটুকথা শুনতে হয়। কিন্তু মা অন্বেষা দেবী মেয়ের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এবং সব প্রতিকূলতা জয় করে আজ তাকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

গ্রাহকদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা
সোনাই প্রায় তেরো-চোদ্দো বছর ধরে বিউটিশিয়ানের কাজ করছেন। প্রথমে একজন পুরুষ হিসেবে কাজ করলেও, পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরোপুরি নারীতে রূপান্তরিত হন। সোনাই জানান, সেই সময় বহু গ্রাহক তাঁদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু নিজের কাজের দক্ষতা ও নিষ্ঠা দিয়ে তিনি প্রমাণ করেন যে রূপান্তরকামী হলেও তিনি তার পেশায় সফল। পরে সেই গ্রাহকরা তাঁদের ভুল বুঝতে পেরে আবার ফিরে আসেন।

আজ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও রূপান্তরকামীদের প্রতি সমাজের বৈষম্য কমেনি। তবে সোনাইয়ের মতো মানুষরা নিজেদের লড়াইয়ে জিতে প্রমাণ করে দিয়েছেন, ইচ্ছা থাকলে সমাজের কোনো বাধা তাঁদের এগিয়ে যাওয়া আটকাতে পারে না। সোনাইয়ের কথায়, তিনি একজন রূপান্তরকামী হিসেবে গর্বিত এবং তাঁর বাবা-মায়ের জন্যও তিনি গর্ববোধ করেন।