পুরুষের চেয়ে কম বেতন পাচ্ছে মহিলা রোবটও! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতেও চমকে দেওয়া লিঙ্গবৈষম্য

মানবসমাজে কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য এবং নারী-পুরুষের বেতনের ব্যবধান দীর্ঘদিনের পুরনো এক পরিচিত বিতর্ক। কিন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষে গড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বা এআই (AI)-এর জগতেও যে এই বৈষম্য নিজের শিকড় বিস্তার করতে পারে, তা একপ্রকার অবিশ্বাস্য ঠেকলেও সত্যি। সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ লিমেরিকের গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি অফিসে কর্মরত পুরুষ এআই এজেন্টদের তুলনায় মহিলা এআই এজেন্টদের পারিশ্রমিক বা বেতন প্রায় ১০.২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, উভয় এআই এজেন্টই একেবারে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ এক এবং অভিন্ন কাজ সম্পন্ন করেছিল।
গবেষণার কাজে মোট ১৮৯ জন অংশগ্রহণকারীকে যুক্ত করা হয়েছিল। তাঁদের হাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে ভার্চুয়াল অফিসে বিভিন্ন কাজ শেষ করার পর নিজ দায়িত্বে এআই এজেন্টদের পারিশ্রমিক মেটাতে বলা হয়। পরীক্ষণের ফলাফল বিশ্লেಷণ করে গবেষকরা দেখতে পান যে, অংশগ্রহণকারীরা অবচেতনভাবেই পুরুষসদৃশ এআই এজেন্টদের বেশি পারিশ্রমিক দিচ্ছেন এবং নারীসদৃশ এআই এজেন্টদের কৃত্রিমভাবে ‘কম মানবিক’ বা কম দক্ষ প্রতিপন্ন করে তাঁদের মজুরি কম দিচ্ছেন। যদিও অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা সরাসরি কোনো রকম বৈষম্য করার কথা স্বীকার করতে চাননি, তবে তাঁদের সামগ্রিক আচরণ ও কাজের ধরণ থেকে এই বেতনের ফারাক স্পষ্টভাবেই ধরা পড়েছে।
ইউনিভার্সিটি অফ লিমেরিকের কেমি বিজনেস স্কুলের গবেষক মেরি হউসফেল্ড এই প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, দিন যত গড়াচ্ছে মানুষের পেশাদার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কিন্তু মানুষ যদি এআই এজেন্টদেরও পরস্পরের সমান ও মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে গণ্য না করে, তবে তা অত্যন্ত সমস্যার বিষয়। মনুষ্যজগতের যাবতীয় কুসংস্কার, বৈষম্য এবং ছুঁৎমার্গ কোনোভাবেই ভার্চুয়াল জগতে সংক্রমিত হতে দেওয়া উচিত নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি। পেশাগত ক্ষেত্রে পুরোদস্তুর এআই প্রয়োগের এই যুগে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমতার পরিবেশ বজায় রাখতে এখনই সচেতনতা বৃদ্ধি করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।