পুরভোটে হঠাৎ আসা দলবদলুদের জন্য কি বন্ধ প্রার্থীপদের দরজা? বিস্ফোরক মন্তব্য শমীক ভট্টাচার্যের!

পুজোর পরেই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচনের প্রবল সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে রাজ্য বিজেপি। রবিবার সল্টলেক বিজেপি অফিসে দলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আসন্ন পুরভোটকে পাখির চোখ করে আয়োজিত এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গ বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, তাপস রায় এবং সজল ঘোষের মতো শীর্ষস্থানীয় পদ্ম নেতারা। রবিবারের এই বৈঠকে ওয়ার্ড ভিত্তিক বুথকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় এবং প্রার্থী বাছাইয়ের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
তবে বৈঠকের শুরুতেই হঠাৎ করে দলবদল করে বিজেপিতে নাম লেখানো এবং হঠাৎ নেতা বনে যাওয়া কর্মীদের উদ্দেশে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে। পুরভোটে টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘আয়াত’ বা অভিজ্ঞতা যে অত্যন্ত জরুরি, তা স্পষ্ট করে শমীকবাবু কটাক্ষের সুরে বলেন, “চার ঘণ্টার প্লেয়ার চার ঘণ্টারই, তাঁরা হলেন টি-টোয়েন্টি প্লেয়ার। আর আমাদের নির্বাচন তো মূলত টেস্ট ম্যাচ, এখানে অনেক লম্বা সময় ধরে খেলতে হয়। আমার মনে হয়, হঠাৎ দলবদল করে আসা সেই সমস্ত মানুষের অতটা রাজনৈতিক টেম্পারামেন্ট বা ধৈর্য থাকে না।” তাঁর এই বিস্ফোরক বার্তার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, পুরভোটে রাতারাতি দলবদল করে আসা বা হঠাৎ গজিয়ে ওঠা সুবিধাবাদী মুখগুলোর জন্য প্রার্থী হওয়ার দরজা কার্যত বন্ধ করে দিল রাজ্য নেতৃত্ব।
সামনেই দুর্গোৎসব, আর দুর্গাপুজোকে পুরোপুরি সামনে রেখেই পুরভোটের প্রচারের রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে রাজ্য বিজেপি। কলকাতা পুরসভা এলাকার অন্তর্গত নিজ নিজ বিধানসভা এলাকায় সাধারণ মানুষের রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা এবং সার্বিক নাগরিক পরিষেবা কোন পর্যায়ে রয়েছে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে—বিধায়কদের এমনটাই স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। বিরোধী শিবিরে থেকেও জনসমস্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে কীভাবে শহুরে ভোটারদের মন জয় করা যায়, তার সুনির্দিষ্ট কৌশল ঠিক করতেই রবিবারের এই সল্টলেক বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।