পুরনো টি-৭২-এর বিদায়, আসছে ড্রোনের ঘাতক ‘রঞ্জিত’! ভারতীয় সেনায় যুদ্ধের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছে মোদি সরকার

বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের রণকৌশল, আর সেই সঙ্গেই তাল মিলিয়ে খোলনলচে বদলে যাচ্ছে ভারতীয় সেনার ট্যাঙ্ক বহর। পাঁচ দশক ধরে সেনার মেরুদণ্ড হয়ে থাকা সোভিয়েত প্রযুক্তির টি-৭২ (T-72) বা ‘অজয়’ ট্যাঙ্ককে এবার অবসরে পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হলো। তার জায়গা নিতে আসছে সম্পূর্ণ দেশীয় ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ‘প্রজেক্ট রঞ্জিত’-এর ফিউচার রেডি কমব্যাট ভেহিকেল (FRCV)।

কেন এই ‘প্রজেক্ট রঞ্জিত’?

বর্তমান সময়ের ড্রোন হামলা এবং অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইলের মুখে পুরনো টি-৭২ ট্যাঙ্কগুলো কিছুটা ব্যাকফুটেই ছিল। সেই খামতি পূরণ করতেই সেনার এই মেগা প্রজেক্ট।

  • সংখ্যার বহর: প্রায় ২,২০০টি নতুন প্রজন্মের ট্যাঙ্ক অন্তর্ভুক্ত করা হবে সেনায়।

  • বিশাল বিনিয়োগ: এই প্রকল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে ভারত সরকার।

  • টার্গেট ২০৩০: আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক মডেল তৈরি হয়ে যাবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই ট্যাঙ্কগুলো সরাসরি সীমান্তে মোতায়েন করা হবে।

[Image: Conceptual design of India’s Future Ready Combat Vehicle (FRCV)]

নতুন ট্যাঙ্কের বিশেষত্ব: কী থাকছে এতে?

‘প্রজেক্ট রঞ্জিত’-এর ট্যাঙ্কগুলো স্রেফ লোহার খাঁচা নয়, এগুলি হবে একেকটি ‘স্মার্ট ওয়ার মেশিন’:

  • AI প্রযুক্তি: এই ট্যাঙ্কগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI চালিত হবে, যা নিজে থেকেই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে পারবে।

  • ড্রোন সংযোজন: ট্যাঙ্কের সঙ্গেই যুক্ত থাকবে ছোট ড্রোন, যা আশেপাশের শত্রুঘাঁটির ওপর নজরদারি করবে।

  • অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন: মিসাইল বা আইইডি (IED) হামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে এতে থাকছে বিশেষ সুরক্ষা কবচ।

  • অত্যাধুনিক ফায়ারপাওয়ার: নির্ভুলভাবে নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম স্মার্ট গোলাবারুদ।

আত্মনির্ভর ভারতের পথে বড় ধাপ

টি-৭২ ট্যাঙ্ক রাশিয়া থেকে আনা হলেও, নতুন এই ‘রঞ্জিত’ ট্যাঙ্ক তৈরিতে দেশীয় সংস্থাগুলোকেই প্রধান্য দেওয়া হচ্ছে। চেন্নাইয়ের আভাডিতে লাইসেন্স উৎপাদনের অভিজ্ঞতায় ভর করে ভারত এবার নিজস্ব প্রযুক্তিতে বিশ্বমানের ট্যাঙ্ক তৈরির পথে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তে চিন এবং পাকিস্তানের পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই ট্যাঙ্কগুলো হবে ভারতের তুরুপের তাস।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy