আধ্যাত্মিক সাধনার মূল ভিত্তি হলো মনের একাগ্রতা। শাস্ত্র অনুযায়ী, উপাসনার সময় শরীরের ভঙ্গি মনের অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। পূজার সময় সঠিক আসন গ্রহণ বা দাঁড়ানোর ভঙ্গি নিয়ে পুরাণে রয়েছে বিশেষ নির্দেশিকা।
সাধারণত, বসে পুজো করাকেই শ্রেষ্ঠ মনে করা হয়। শান্ত হয়ে আসনে বসলে চিত্ত স্থির থাকে, মন্ত্রোচ্চারণ ও ভক্তির প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়। শাস্ত্র মতে, সরাসরি মেঝেতে না বসে কুশাসন, পশমের আসন বা পরিষ্কার সুতির কাপড়ে বসে পুজো করা উচিত। এতে শারীরিক শক্তি বা আধ্যাত্মিক উর্জা সংরক্ষিত থাকে। তবে আরতি, পরিক্রমা, সংকীর্তন বা শারীরিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করা শাস্ত্রসম্মত। এখানে ভক্তিই আচারের চেয়ে বড়।
পুজোর সময় ব্যক্তিগত শুচিতা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত নির্দিষ্ট আসনে বসলে উপাসনায় একধরণের মানসিক শৃঙ্খলা ও পবিত্রতা তৈরি হয়। মনে রাখবেন, বাহ্যিক আচারের চেয়েও ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি হলো অন্তরের গভীর বিশ্বাস। শুদ্ধ চিত্তে ও সঠিক নিয়ম মেনে ভক্তিভরে উপাসনা করলে তা কেবল মানসিক প্রশান্তিই দেয় না, গৃহে সুখ ও সমৃদ্ধিও বয়ে আনে।