পুজোর মুখে বড় ধাক্কা! লাগাতার ধসে বিপর্যস্ত শিলিগুড়ি-দার্জিলিং টয়ট্রেন, বাড়ছে উদ্বেগ

টানা বৃষ্টির ফলে একাধিক ধসের কারণে গত পাঁচ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং টয়ট্রেন পরিষেবা। পুজোর মরসুমের ঠিক আগে এই ঘটনায় পর্যটন শিল্পে বড়সড় প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। ধস সরিয়ে কবে নাগাদ পরিষেবা স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে নিশ্চিত নন দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR) কর্তৃপক্ষও।

টানা বৃষ্টির কারণে রংটং এবং তিনধারিয়ার মধ্যে একাধিক জায়গায় ভূমিধস নেমেছে। কোথাও কোথাও লাইনের উপর বড় বড় পাথর এসে পড়েছে, আবার কোথাও লাইন ধসের নিচে চাপা পড়ে গেছে। এর ফলে রেললাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

গত রবিবার ধস সরানোর কাজ শেষ হলেও রাতের দিকে আবার নতুন করে ধস নামে। এ বিষয়ে ডিএইচআর-এর ডিরেক্টর রিষভ চৌধুরী বলেন, “আপাতত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ট্রেন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। রেললাইন পুরোপুরি মেরামত করে পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ট্রেন চালানো যাবে না। তবে বৃহস্পতিবারও পরিষেবা চালু করা যাবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শুক্রবার ট্রায়াল রানের পরেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”

পুজোর ছুটিতে টয়ট্রেনের টানে অনেক পর্যটক পাহাড়ে আসেন। কিন্তু পরিষেবা বন্ধ থাকায় অনেকেই হতাশ হচ্ছেন। এর ফলে শুধু রেলেরই আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না, বরং স্থানীয় পর্যটন ব্যবসাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের আহ্বায়ক রাজ বসু দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার আবেদন জানিয়েছেন।

এই খারাপ খবরের মধ্যেও পর্যটকদের জন্য একটি ভালো খবর আছে। ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে এই মাসেই একটি ১৩০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী স্টিম ইঞ্জিন দিল্লি থেকে দার্জিলিংয়ে আসছে। এটি পুজোর মরসুমে চালু হতে পারে। এছাড়াও, পর্যটকদের চাহিদা মেটাতে ডিএইচআর নতুন জঙ্গল টি-সাফারি এবং আরও তিনটি নতুন জয়রাইড চালু করেছে।