পুজোর মরশুমের মাঝে দাম কমল হলুদ ধাতুর! কলকাতায় আজ কতয় বিক্রি হচ্ছে সোনা-রুপো?

সোনার দামের ওঠানামার দিকে যাঁদের নিয়মিত নজর থাকে, তাঁদের জন্য রইল এক বড়সড় এবং স্বস্তিদায়ক আপডেট। স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটি (SSBC)-র প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কলকাতার রিয়েল এস্টেট ও বুলিয়ান মার্কেটে সোনার দাম কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে। বিগত কয়েক দিনের তুলনায় আজ ২২ ক্যারেট, ২৪ ক্যারেট এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর।
স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর ২০২৬-এর সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কলকাতার বাজারে প্রতি গ্রামের হিসাবে সোনার বিভিন্ন বিশুদ্ধতার দর ছিল নিম্নরূপ: ৯৯৫ বিশুদ্ধতার ফাইন গোল্ডের দাম প্রতি গ্রামে ১৪,৮১৬ টাকা। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা ২২ ক্যারেট হলমার্ক সোনা (৯১৬)-র বিক্রির দর প্রতি গ্রাম ১৪,০৭৫ টাকা এবং কেনার দর ১৩,৪৮২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এ ছাড়া, ১৮ ক্যারেট সোনার (৭৫০) প্রতি গ্রামের দাম রয়েছে ১১,৫৫৫ টাকা। অন্যদিকে, মূল্যবান ধাতু রুপোর বাজারেও পতন লক্ষ্য করা গেছে; যেখানে ৯৯৯ বিশুদ্ধতার এক কেজি সিলভার বারের দাম ধার্য হয়েছে ২,২৩,৮৪৩ টাকা।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত ১০ অক্টোবর ২০২৬-এর তুলনায় ১২ অক্টোবর সোনার বাজারদর বেশ কিছুটা কমেছে। ১০ অক্টোবর প্রকাশিত এসএসবিসি-র তথ্য অনুযায়ী, ফাইন গোল্ডের প্রতি গ্রামের দাম ছিল ১৪,৯৩৪ টাকা, ২২ ক্যারেট হলমার্ক সোনার বিক্রির দর ছিল ১৪,১৮৫ টাকা এবং কেনার দর ছিল ১৩,৫৯০ টাকা। পাশাপাশি, ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ছিল প্রতি গ্রাম ১১,৬৫ আদি টাকা। সেই হিসেবে বিচার করলে, গত ১০ অক্টোবরের তুলনায় ১২ অক্টোবর ফাইন গোল্ডের দাম প্রতি গ্রামে ১১৮ টাকা কমেছে। একইভাবে ২২ ক্যারেট সোনার বিক্রির দর প্রতি গ্রামে ১১০ টাকা এবং কেনার দর ১০৮ টাকা হ্রাস পেয়েছে। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে কমেছে ৯৫ টাকা।
সোনার পাশাপাশি রুপোর বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত ১০ অক্টোবর এক কেজি সিলভার বারের দাম যেখানে ছিল ২,২৪,৬১৬ টাকা, সেখানে ১২ অক্টোবর তা কমে হয়েছে ২,২৩,৮৪৩ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র দুদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি রুপোর দাম কমেছে ৭৭৩ টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসবের মরশুমে বা গয়না কেনার পরিকল্পনা করার আগে এই মূল্যপতন ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। তবে গয়না কেনার সময় কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির প্রকাশিত এই দরের সঙ্গে ৩ শতাংশ জিএসটি যুক্ত থাকে না। তাই শোরুম বা দোকান থেকে গয়না কেনার সময় এর সঙ্গে জিএসটি এবং প্রযোজ্য মেকিং চার্জ যোগ হয়ে চূড়ান্ত দাম কিছুটা বাড়তে পারে। বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে মেকিং চার্জ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের তারতম্য থাকতে পারে, ফলে গয়না কেনার আগে সংশ্লিষ্ট দোকানের সঠিক দর যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।