‘সুপ্রিম কোর্টের দরজা ২৪ ঘণ্টাই খোলা, কিন্তু…’,ভোট চুরি ও SIR ইস্যুতে কী বললেন সিজেআই?

সুপ্রিম কোর্টের দরজা দেশের সকল নাগরিকের জন্য সর্বদাই খোলা এবং এই সর্বোচ্চ আদালত সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার্থেই তৈরি। সোমবার ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনিক সাক্ষাতের আর্জি খারিজ প্রসঙ্গে মুখ খুলে স্পষ্ট ভাষায় এই বার্তা দিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR), কথিত ‘ভোট চুরি’ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধী নেতাদের তোলা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক স্তরে কোনো বৈঠক সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেছেন, অভিযোগ থাকলে স্মারকলিপি জমা না দিয়ে সঠিক আইনি পথ অনুসরণ করে আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে বিরোধীদের।
কেন মিলল না সাক্ষাতের অনুমতি? সোমবার বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে দেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়ে আর্জি জানিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে তাঁরা একটি স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন। তবে সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, রবিবার রাতেই তিনি বিরোধীদের চিঠির জবাব পাঠিয়ে দেখা করতে না পারার কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আদালত প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বিচারবিভাগীয় বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বিরোধীরা যে যে বিষয় তুলে ধরেছেন, তা ইতিমধ্যেই আদালতে বিচারাধীন। ফলে এই প্রশাসনিক বৈঠক বা স্মারকলিপির কারণে ভবিষ্যতে স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি ও আমার সহকর্মীরা সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এই ধরনের প্রশাসনিক বৈঠক এড়িয়ে চলাই যুক্তিসঙ্গত।”
‘আইনি পথ অনুসরণ করুন’, স্পষ্ট বার্তা শীর্ষ আদালতের: প্রধান বিচারপতি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, বিচারবিভাগীয় ক্ষমতার মাধ্যমে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট দায়বদ্ধ। তবে তার জন্য প্রশাসনিক স্মারকলিপির বদলে নির্দিষ্ট আইনি পিটিশন বা দরখাস্ত পেশ করাই উপযুক্ত পথ। বিরোধীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ বন্ধ করা হয়নি; বরং নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো মেনে আবেদন জানাতে বলা হয়েছে।
দিল্লিতে বিক্ষোভ মিছিল ও কড়া নিরাপত্তা: এদিকে, প্রধান বিচারপতির অনুমতি না মিললেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের অভিমুখে মিছিল ও আন্দোলনে অনড় অবস্থান নেয় বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। এসআইআর বন্ধ করা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং ব্যালট পেপারে ভোট ফিরিয়ে আনার দাবিতে তাঁদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মধ্য দিল্লিতে জারি করা হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বারাখাম্বা রোড ও মান্ডি হাউস সহ সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে দিল্লি পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এবং সিআরপিএফ (CRPF) মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্ধ করে দেওয়া হয় নিকটবর্তী একাধিক মেট্রো স্টেশনের গেট। তবে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত অবস্থান থেকে স্পষ্ট—যেকোনো রাজনৈতিক সংঘাতের সমাধান একমাত্র আইনি পথেই নির্ধারণ হবে।