রাজনীতিতে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার মিশেল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আরও উসকে দিলেন ভরতপুরের বিধায়ক তথা তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবীর। বৃহস্পতিবার রাতে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে জনতা উন্নয়ন পার্টির এক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।
হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, দিঘায় জগন্নাথ মন্দির তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি খরচে প্রসাদ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিয়ে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করছেন। তাঁর দাবি, “মুসলমানদের পুজোর প্রসাদ খাওয়া হারাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৌশলে মুসলমানদের ঈমান দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।” তিনি আরও দাবি করেন যে, সরকারি টাকায় মন্দির বা মসজিদ নির্মাণ করা অনুচিত এবং এর ফলে ধর্মনিরপেক্ষতা লঙ্ঘিত হচ্ছে।
এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা মতিবুর রহমান দাবি করেন, হুমায়ুন কবীর এলাকায় হিন্দু-মুসলিম বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছেন, যার সুযোগ নিচ্ছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা কিষান কেডিয়া উল্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর তোষণ নীতির ফলেই আজ এই ধরনের নেতাদের উত্থান ঘটছে।”
প্রাক্তন বিধায়ক মোস্তাক আলম ও সিপিআইএম নেতা জামিল ফিরদৌস যৌথভাবে এই সাম্প্রদায়িক উস্কানির তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁদের মতে, মালদা জেলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত, আর সেখানে দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবীর আগুন নিয়ে খেলছেন। শান্তিপ্রিয় মানুষ এই ষড়যন্ত্র ধরে ফেলেছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে এর যোগ্য জবাব দেবেন বলেও তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে, এই মন্তব্য বাংলার রাজনৈতিক বাতাবরণকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।