পুজোর ঠিক আগেই আবহাওয়া নিয়ে বড় ধাক্কা! ফের কি বৃষ্টির জলে ভাসবে বাংলার আনন্দ?

হাতে আর মাত্র গোনা কয়েকটা দিন। চারদিকে এখন শুধু পুজোর গন্ধ এবং শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার হুল্লোড়। শহর থেকে গ্রাম—সবুজ মণ্ডপ আর আলোর রোশনাইয়ে সেজে উঠছে চারপাশ। কিন্তু বাঙালির এই সবচেয়ে বড় উৎসবের প্রাক্কালে আবহাওয়া নিয়ে ফের এক নতুন ও উদ্বেগজনক সম্ভাবনার কথা শোনালো ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। বিগত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও দুর্যোগের ক্ষত সেরে ওঠার আগেই ফের নতুন নিম্নচাপের চোখ রাঙানিতে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

হাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও মায়ানমার উপকূলে নতুন করে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। এটি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হচ্ছে। যদিও এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে, তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সিস্টেমটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোতে পারে। যদিও এর সুনির্দিষ্ট সময় বা সরাসরি প্রভাব নিয়ে এখনও পরিষ্কার করে কিছু জানানো হয়নি, তবে মায়ানমার উপকূলের কাছাকাছি তৈরি হওয়া আরেকটি নিম্নচাপ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে স্থলভাগের দিকে এগোতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই নতুন সিস্টেমের সরাসরি প্রভাব হয়তো আগেরবারের তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে, তবুও এটি পূর্ব উত্তর প্রদেশ, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড় এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পুনরায় মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। ইতিমধ্যেই আইএমডি-র তরফে আসাম, মেঘালয়, কেরালা, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা, দক্ষিণ অভ্যন্তরীণ কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি কেরালা, মাহে, পুদুচেরি এবং কারাইকালের কিছু কিছু এলাকায় বজ্রপাত ও দমকা হাওয়াসহ ঝড়েরও সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। যেমন আসাম ও মেঘালয়ে সপ্তাহের মাঝপথ পর্যন্ত, অরুণাচল প্রদেশে উইকএন্ডে এবং দক্ষিণে তামিলনাড়ুতে টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার মতো পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও বৃষ্টির প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পুজোর আনন্দ উদযাপনের আগে এই লাগাতার দুর্যোগের পূর্বাভাসে আমজনতার মনে এখন একটাই প্রশ্ন—তবে কি পুজোতেও বৃষ্টির বাধা কাটবে না? এখন কেবল আকাশ পরিষ্কার হওয়ার এবং সুসংবাদের অপেক্ষায় দিন গুনছেন সকলে।