পুজোর উপহার! পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ঢুকলো পদ্মার ইলিশ, কিন্তু দামে কি স্বস্তি মিলবে?

আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা, তারপরই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। আর পুজোর আগে ইলিশ না হলে কি চলে! সেই ইলিশপ্রেমী বাঙালির জন্য সুখবর এল। মঙ্গলবার রাতে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে আটটি ট্রাকে করে প্রায় ৩৮ মেট্রিক টন পদ্মার ইলিশ ভারতে এসে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রক থেকে এ বছর মোট ১২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার এটি প্রথম চালান। এই রফতানি কার্যক্রম চলবে অক্টোবর মাসের ৫ তারিখ পর্যন্ত।
পদ্মার ইলিশ এলেও তার দাম ও মান নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। প্রতি কিলো ইলিশের রফতানি মূল্য ১২ ডলার ৫০ সেন্ট, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১,৫৫০ টাকা। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচ যোগ হয়ে স্থানীয় বাজারে দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হলো, ভারতীয় সীমান্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, যে ইলিশগুলো এসেছে তার বেশিরভাগই ১০ দিন আগের কোল্ড স্টোরেজ থেকে আনা। এখনও সরকারি ছাড়পত্র হাতে না আসায় সেই ইলিশ কখন কলকাতার বাজারে পৌঁছাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন, এই মাছ স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ হবে।
গত বছর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তোলপাড় চললেও ভারতে পদ্মার ইলিশ এসেছিল। তবে এবার চিত্রটা কিছুটা আলাদা। কারণ এ বছর বাংলায় প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় ডায়মন্ড হারবার, কাকদ্বীপ এবং রায়দিঘির ইলিশের ফলন খুব ভালো হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ডায়মন্ড হারবার এবং কাকদ্বীপের ইলিশ যেমন দেখতে সুন্দর, তেমনই তার স্বাদও অতুলনীয়। অনেকেই এই ইলিশ খেয়ে বলছেন, ‘রুপোলি শস্য নাম সার্থক।’ এই কারণে এবার হয়তো পদ্মার ইলিশ নিয়ে মাতামাতি অনেকটাই কম হবে।
এই বছর ভোজনরসিক বাঙালিরা পুজোর সময় তাজা এবং সুস্বাদু ইলিশের স্বাদ উপভোগ করতে পারবে, তবে তা পদ্মার না কি ডায়মন্ড হারবারের, তা নিয়েই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।