পুজোর আগে চরম সিদ্ধান্ত! মহালয়া থেকে কুমোরটুলিতে ছবি তোলা যাবে না, জারি হলো নিষেধাজ্ঞা

পুজো যতই এগিয়ে আসছে, ততই কুমোরটুলি জুড়ে বাড়ছে ভিড়। বিশেষ করে শাড়ি পরা মডেল ও ফটোগ্রাফারদের ভিড়। প্রতিমার সামনে নানা ভঙ্গিমায় ছবি তোলার হিড়িকে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন মৃৎশিল্পীরা। কাজের সময় চরম অসুবিধার সম্মুখীন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মহালয়া থেকে ছবি তোলা ও মডেলিংয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সমিতি।

কী কারণে এই সিদ্ধান্ত?

পূজার সময় কুমোরটুলিতে ভিড় জমাচ্ছে অসংখ্য শৌখিন ফটোগ্রাফার এবং মডেল। তারা প্রতিমার পাশে বা নিচে বসে, এমনকি প্রতিমার মুখের ছাঁচ হাতে নিয়ে ছবি তুলছে। এতে কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে এবং শিল্পীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে, প্রতিমার চক্ষুদান অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে এবং শান্ত পরিবেশে করতে হয়, যা এই ধরনের ভিড়ে অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সমিতির সম্পাদক বাবু পাল বলেন, “উৎপাত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আমরা কাজ করতে পারছি না। শিল্পীদের কাজের ক্ষতি হচ্ছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে মহালয়া থেকে পঞ্চমী পর্যন্ত ছবি তোলা বা মডেলিংয়ের জন্য কোনো ফটোগ্রাফারকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।”

টিকিট বিক্রি করেও সমাধান হয়নি

কয়েক বছর আগে এই সমস্যা সমাধানের জন্য সমিতি ছবি তোলার জন্য টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল। সিজন টিকিট ১০০ টাকা এবং সাত দিনের টিকিট ৫০ টাকায় বিক্রি হতো, যা থেকে প্রতি বছর ৫০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা আয় হতো। কিন্তু এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ভিড় কমার বদলে বরং আরও বেড়েছে।

সমিতি এই বছর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে রাজি, তবু শিল্পীদের সুবিধার কথা ভেবে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। মাইক লাগিয়ে নিয়মিত এই নিষেধাজ্ঞার কথা প্রচার করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন শিল্পের সম্মান রক্ষা করবে, তেমনই শিল্পীদের সুষ্ঠুভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলে মনে করছে সমিতি।